বিএনপিতে আলোচিত রিজভী, তাজুলকে আ.লীগের না

  মোল্লা হারুন উর রশীদ, কুড়িগ্রাম

১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৫৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসন গঠিত। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসনটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা জোরেশোরে চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাপার কেন্দ্রীয় নেতা তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মো. জাফর আলীর নাম। তবে গত নির্বাচনের মতো এবারও আর তাজুলকে ছাড় দিতে চায় না স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাংসদ জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় নেতা তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে তাজুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার শক্ত দাবিদার হলেও নানা কারণে অন্য কাউকে প্রার্থী করা যায় কিনা এমন ভাবনাও রয়েছে দলে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে নবীন-প্রবীণ বেশ কয়েকজন নেতা চেষ্টা করছেন। দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তারা সংশয়ে আছেন। কেননা জোটগত নির্বাচন হলে এবারও হয়তো জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দিতে হতে পারে। বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবার আগে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি এখানে নির্বাচন না করলেও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে থেকে কেউ মনোনয়ন পাবেন বলে আলোচনা রয়েছে।

জাপার তাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার নির্বাচিত হন। এরশাদ আমলে তিনি মন্ত্রীও ছিলেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলে (পিডিপি) যোগ দেন। পরে আবার জাতীয় পার্টিতে ফেরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বিএনপির টিকিট নিয়ে ২০০৮ সালে নির্বাচন করেন। কিন্তু জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে হেরে যান। পরে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাফর আলীর কাছেও শোচনীয়ভাবে হারেন তাজুল ইসলাম। জাপায় ফিরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলের টিকিটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম-২ আসনে বর্তমানে জাপার সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই দুর্বল। জেলা ও উপজেলায় পাল্টাপাল্টি কমিটির কারণে সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে। সাংসদ পছন্দের কয়েকজনকে দিয়ে নিজের কর্মকা- চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। অবশ্য আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

জাপায় বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ বিমানের সাবেক পরিচালক মেজর (অব) আবদুুস সালামের নাম আলোচিত হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন এলাকায় বিলবোর্ড লাগিয়ে জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মাঝে মধ্যে এলাকায় গণসংযোগও করেন। সালাম জানান, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালার কারণে সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় বিগত নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। তবে এবার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী তিনি। জাপার বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তাজুল ইসলাম চৌধুরী মনোনয়ন না পেলে মেজর সালাম অথবা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজে প্রার্থী হতে পারেন এ আসনে।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক সাংসদ ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাফর আলীর নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) আমসা-আ-আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ম-ল, সহ-সভাপতি চাষী করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমান উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ হাসান লোবান, চলচ্চিত্র পরিচালক আবু সুফিয়ান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন দুলাল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. হামিদুল হক খন্দকারের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে। তাদের অনেকেই নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এবং বিলবোর্ড ও পোস্টার লাগিয়ে পরিচিতি অর্জনের চেষ্টাও করছেন।

বিগত নির্বাচনে মো. জাফর আলী আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলেও জাপার সঙ্গে সমঝোতার কারণে আসনটি তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে ছেড়ে দিতে হয়। তবে নেতাকর্মীরা এবার নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার জোর দাবি করছেন। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চারটি আসনে দলীয় কোনো সাংসদ নেই। তাই নেতাকর্মীদের মনোবল সংহত রাখতে জাফর আলীকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংবর্ধনাও পেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন। অবশ্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার কারণে সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতা প্রধানমন্ত্রী ও জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জানিয়েছেন, সদর আসন আবার জাপাকে ছেড়ে দিলে তা দলের বড় ক্ষতির কারণ হবে। জাফর আলীকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে তাদের জোর সুপারিশ রয়েছে। এ ব্যাপারে জাফর আলী বলেন, ভোটাররা এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার জন্য কাজ করব।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২০০৬ সালে বাতিল ঘোষিত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ছিলেন। কুড়িগ্রাম শহরের সর্দারপাড়ায় তার বাড়ি। মাঝে একবার স্থানীয় নেতাদের বিরোধ মেটাতে এসে ব্যর্থ হয়ে তিনি কুড়িগ্রামের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তবে বর্তমানে এ আসনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তার অবস্থান বেশ নমনীয় বলে জানিয়েছেন জেলার শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন। এ ছাড়া এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক উমর ফারুক, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ও কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সমাজসেবায় অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সমাজসেবী মো. নুরনবী সরকার। বাম দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় নেতা জাহিদুল হক মিলু প্রার্থী হতে পারেন। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। তবে এই দল থেকে কে প্রার্থী হবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে মাওলানা ইয়াছিন আলীর নাম শোনা যাচ্ছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে