বিএনপির ভরসা মিনু

বাদশাকে নিয়ে আ.লীগে ক্ষোভ

  আমজাদ হোসেন শিমুল, রাজশাহী

১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০২:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী মহানগরী নিয়েই রাজশাহী-২ (সদর) আসন। আসনটিতে মহাজোট থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তবে দীর্ঘ ৯ বছরে তিনি আসনটিতে উন্নয়নমূলক তেমন কোনো কাজই করতে পারেননি। আওয়ামী লীগ ও তৃণমূল ভোটাররা এমনটাই অভিযোগ করেছেন। তাই রাজশাহী নগরীতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবার বাদশাকে না দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে যোগ্য কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নেতারা।

এদিকে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে বিএনপি থেকে আপাতত একক প্রার্থী হিসেবে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর নাম শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই তিনি এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

২০০৮ সালে রাজশাহী সদর আসন গঠিত হয়। এর আগে পবা ও সদর নিয়ে এ আসন ছিল। নতুনভাবে গঠিত হওয়ার পর একবার ভোটের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়বার বিনা ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন ফজলে হোসেন বাদশা।

সার্বিক দিক বিবেচনা করলে এই শিক্ষানগরী কাক্সিক্ষত উন্নয়ন পায়নি। এর অন্যতম কারণ বিভাগীয় শহর হয়েও দীর্ঘদিন এখানকার কেউ পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পাননি। রাজশাহী শহরের প্রত্যক্ষ করার মতো যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তা সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের সময়েই। এটি বিবেচনায় নিয়েই এবার আওয়ামী লীগ সদর আসনে অন্য কোনো দলকে ছাড় দিতে নারাজ। বিষয়টি এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নানাভাবে উত্থাপনও করা হয়েছে। তা ছাড়া এমপি ফজলে হোসেন বাদশা সম্পর্কেও কেন্দ্রে নানা অভিযোগ গেছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে রাজশাহী আওয়ামী লীগের বিরোধ লেগে আছে।

রাজশাহী সদরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নাম। এ ছাড়া মাঠে আছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, নগর যুবলীগ সভাপতি রমজান আলী, নগর আওয়ামী লীগের সদস্য আহসানুল হক পিন্টু, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল ও সদস্য হাবিবুর রহমান বাবু। লিটন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এইচএম কামরুজ্জামানের ছেলে। রাজশাহীতে তার জনপ্রিয়তাও রয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগেই রাজশাহী সিটি নির্বাচন হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে মেয়র পদে লিটনকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে আবার কেন্দ্র থেকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। ফলে লিটন যে আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না, এটি প্রায় নিশ্চিত।

এদিকে আবারও মহাজোট থেকে ফজলে হোসেন বাদশা মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে জোরালো আলোচনা রয়েছে। বাদশা আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন। এবারও নিজ দলের সামান্য কিছু ভোটের চেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপরই ভরসা রাখতে হবে। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে যে ক্ষোভ আছে, তাতে আগামী নির্বাচনে তিনি খুব একটা সুবিধা আদায় করতে পারবেন বলে মনে করেন না আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে থেকে যাকেই দল মনোনীত করবে, আমরা তার হয়েই কাজ করব। নৌকা প্রতীক নিয়ে যেই আসবেন, তার পক্ষে আমাদের কাজ করতে হবে। তবে গত দুবার রাজশাহী সদর আসনে মহাজোটের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের সংগঠনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছে। এমপির কাছ থেকে দলের ওয়ার্ড পর্যায়ে অফিস করতে দুই বান্ডিল টিনও পায়নি নেতাকর্মীরা। এর ফলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, এটাই এখানকার অনেক কর্মী জানে না। কারণ জোট থেকে নৌকা নিয়ে এমপি হলেও এমপি ফজলে হোসেন বাদশার কাছ থেকে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মী কোনো সহযোগিতা পাননি।’

তাই এবার এই আসনে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে কেন্দ্রের কাছে এরই মধ্যে আমাদের নেতাকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন।

নগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী বলেন, গত নির্বাচনেও সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলাম। এবারও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছি। আশা করি, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।

আহসানুল হক পিন্টু বলেন, দল সুযোগ দিলে আগামীতে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চাই। তবে এবার এখানে দলীয় প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এর কোনো বিকল্প নাই।

মীর ইকবাল বলেন, ‘এখন এই শহরে আমাদের দলীয় এমপি নেই, মেয়রও নেই। আমাদের কথা বলার মতো কেউ নেই। এজন্য এবার দলের প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন চাইব।

এমপি ফজলে হোসেন বাদশা জানান, মহাজোটের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি করতে কেউ কেউ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারাই হয়তো আমার বিরুদ্ধে নানা কথা বলে বেড়াচ্ছে। তবে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, সরকারের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিÑ এমন কোনো অভিযোগ কেউ দিতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘যারা এসব কথা বলছেন, তারা গত তিন বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার নিবিড় যোগাযোগ আছে। তারা আমার পক্ষে আছেন।

বিএনপি : রাজশাহী সিটি করপোরেশনে টানা ১৭ বছর মেয়র এবং দুবার সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা। ১/১১-এর পটপরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ফজলে হোসেন বাদশার কাছে পরাজিত হন তিনি। এবার বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপিতে এখনো তার একচ্ছত্র আধিপত্য। নগরীর সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। তবে এ আসন থেকে বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা ও কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মিনুর নামই বেশি আলোচনায় আছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচনকে ঘিরে রিজভীর কোনো কার্যক্রম নেই রাজশাহীতে। ফলে মিনুই এখানে মনোনয়ন পাচ্ছেন বলেই ধরে নিচ্ছেন তারা।

তবে বর্তমানে নগর বিএনপি একাধিক ভাগে বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাসিক মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। অন্য গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিনু।

এসব বিষয়ে মিনু বলেন, বিএনপি বড় দল। এখানে নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা থাকবেই। এটি ভালো লক্ষণ। নেতা হওয়ার প্রতিযোগিতা না থাকলে দলে ভালো নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না। তাই এ প্রতিযোগিতার কারণে কিছু মনোমালিন্য থাকবেই। তবে নির্বাচন এলে এসব ভুলে গিয়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করবে। আমরা সেটিই করি।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে