ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

  গোলাম রাব্বানী

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রচ- শীত ও তীব্র যানজট উপেক্ষা করে গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ছিল উপচেপড়া ভিড়। ভেতরে-বাইরে ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। বেড়ে যায় ভোগান্তি। দীর্ঘপথ হেঁটেই চলাচল করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টল বা প্যাভিলিয়নে তাই দর্শনার্থী সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হয়। মেলায় থাকা কৃত্রিম লেক ও সুন্দরবনেও ছিল বিনোদনপ্রেমীদের প্রচ- ভিড়।

তীব্র শীত থাকায় মেলার প্রথম দিকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল কিছুটা কম। তবে প্রথম শুক্রবার থেকেই তা জমে ওঠে। গতকাল ছিল দ্বিতীয় শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটি পেয়ে অনেকেই সপরিবারে মেলায় ঘুরে বেরিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে গিয়ে দেখেছেন পছন্দের পণ্যটি। পাশাপাশি অনেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনেও নিয়েছেন। তাই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে গৃহস্থালি পণ্য। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও ইরানের প্যাভিলিয়নেই ভিড় বেশি দেখা গেছে। এককথায় গতকাল থেকেই পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে বাণিজ্যমেলা। প্রতিদিনই সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকছে। বড়দের প্রবেশ ফি ৩০ এবং ছোটদের জন্য ২০ টাকা।

প্রচ- শীত থাকায় সকালের দিকে দর্শনার্থীর চাপ কম ছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে দুপুরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঢাকাবাসীর স্রোত নামে মেলাপ্রাঙ্গণে। আর ভিড় যত বাড়তে থাকে, বিক্রেতাদের মুখেও ফুটে ওঠে সন্তুষ্টির ছাপ। দোকানগুলোয় খাবারের দাম বেশি হলেও বসার জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রচ- ভিড় হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অবশ্য কেউ কেউ মানুষের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মেলায় অস্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে কর্মরত কর্মকর্তা রাউফুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, এ পর্যন্ত মাত্র একজনকেই অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানো হয়েছে। আর কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বেশি ধুলার কারণেই লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মেলার আইনশৃঙ্খলা দেখার জন্য তিন শিফটে ৫০০ জন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকে। এ ছাড়া গোয়েন্দা তৎপরতা তো আছেই। সেই সঙ্গে ১০টি ওয়াচ টাওয়ারসহ একটি প্রধান টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ তদারকি করা হচ্ছে। এবারই ১৫০টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে আমরা বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তাই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা প্রণব কুমার প্রামাণিক বলেন, এবারের মেলায় সবকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবেই চলছে। এ পর্যন্ত ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে অনেক কম।

এদিকে গতকাল সকালে ছিল সরকারি কয়েকটি ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা। আর মেলায় দর্শনার্থীদের আগমন ও বিশ্ব ইজতেমামুখী যানবাহনের চাপে বিকাল থেকেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনগুলোকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। উপায়ন্তর না পেয়ে মানুষ হেঁটে হেঁটেই পৌঁছেছেন গন্তব্যে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে