লেনদেন কমেছে আশঙ্কাজনক

  আবু আলী

১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার শেয়ারবাজারে একসময় ৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেন নেমেছে তিনশ কোটিতে। গত সপ্তাহে টানা ৫ দিন দরপতনের পর সূচক ৭ পয়েন্ট বাড়লেও লেনদেন কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাজারে উত্থান-পতন থাকবে; তবে লেনদেন কমে যাওয়া আশঙ্কাজনক।

পুঁজিবাজারবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, পুঁজিবাজারের এমন আচরণের যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। তবে সামনের দিনে পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরবে বলে প্রত্যাশা তার।

বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, বাজারে দরপতনের তেমন কোনো কারণ নেই। তবে ব্যাংক ক্লোজিংয়ের প্রভাব থাকতে পারে। বাজার শিগগিরই ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর এক পরিচালক জানান, বাজারের এ ধরনের আচরণে বিনিয়োগকারীদের ভাবিয়ে তুলছে।

অন্যদিকে বাজারে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাজার মূলধনও। গত ৩ জানুয়ারি ঢাকার শেয়ারবাজারে মূলধনের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। গত বৃহস্পতিবার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায়। আলোচ্য কয়েক দিনে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৮ হাজার কোটি টাকা। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের সামান্য উত্থানে লেনদেন শেষ হয়। এদিনও ডিএসইতে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে। টানা সাত দিনের পতনে ডিএসইতে লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও লেনদেন কমেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৮১ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন থেকে প্রায় ৫৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা কম। বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয় ৪৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নেয় ৩৩৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৭টির, কমেছে ১৬৫টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৬২টি কোম্পানির শেয়ারদর। সকালে সূচকের নেতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পর ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্যসূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ১৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরিয়া সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৯১ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২৬০ পয়েন্টে।

ডিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো স্কয়ার ফার্মা, ইফাদ অটো, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, আমরা নেটওয়ার্ক, ন্যাশনাল টিউব, বিডি থাই, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার, সিটি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো বিডি অটোকার, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, মতিন স্পিনিং, অ্যাপেক্স স্পিনিং, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, মেঘনা লাইফ, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম লাইফ ও জিকিউ বলপেন।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আমরা নেটওয়ার্ক, আজিজ পাইপ, হা-ওয়েল টেক্সটাইল, বঙ্গজ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি সোনালী মিউচুয়াল ফান্ড ও ঢাকা ডাইং।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২০ কোটি ৯২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৯ হাজার ১২৫ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৭টির, কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টির শেয়ারদর।

সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, আমরা নেটওয়ার্ক, ন্যাশনাল ব্যাংক, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, বেক্সিমকো, হামিদ ফেব্রিক্স, বিডি থাই ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে