আ.লীগ, না জোট, বিএনপিতে নতুন মুখ

  রফিকুল আলম, ফটিকছড়ি

২২ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:৩৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের সর্ববৃহৎ ফটিকছড়ি উপজেলার দুই পৌরসভা ও ১৮ ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-২ আসন। এটি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে মনে করা হতো। এর কারণ হচ্ছে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এখান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের বিএনপিবিহীন নির্বাচনে তরিকত ফেডারেশন এ আসন থেকে আওয়ামী জোটের মনোনয়ন পায়। বর্তমানে এখানকার সংসদ সদস্য তরিকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী।

ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে নানা দলে বিভক্ত। একসময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে ফটিকছড়ি সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে ক্রমে তা কমে আসে। জামায়াতের আগের সেই সশস্ত্র অবস্থান নেই। কিন্তু বহুধা বিভক্ত আওয়ামী লীগের একাধিক পক্ষ এখনো সক্রিয়। ফলে এখানে সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে ক্যাডারদের দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। তাদের এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোটাররা আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। বিএনপির বিশাল সমর্থন সৃষ্টি হয় ফটিকছড়িতে। তাই আগামী নির্বাচনে এখানে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের লড়াই তুমুল হবে বলে ভোটারদের ধারণা। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ আসন থেকে মনোনয়ন পাবে, নাকি জোট থেকে এবারও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারীকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়েই বেশি আলোচনা। এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। কিন্তু পরবর্তী সময় তার সঙ্গে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী বলেন, নৌকা নিয়েই আবার আসছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন।

আর এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছি। মোশাররফ ভাই আমাদের সবার নেতা। আমরা অতীতের দূরত্ব কমিয়ে এনেছি।

এ আসনে ২০০৮ সালে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। যদিও তার মূল আসন রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া। এবার এখানে বিএনপির নতুন মুখ আসতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুজনের নাম বেশি শোনা যায়। তারা হলেনÑ হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজি ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা কাদের গণি চৌধুরী। দুজনই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন।

বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজি বলেছেন, বিএনপি থেকে মনোনয়ন আমাকে দেওয়াই আছে। গতবার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুরোধে ছেড়ে দিয়েছিলাম। তখন চেয়ারপারসন বলেছিলেন, আগামীবার আপনি করবেন। তিনি বলেন, চেয়ারপারসন যদি আমাকে পছন্দ না করেন, তবে আপত্তি নেই। কিন্তু ফটিকছড়ি আসন থেকে ফটিকছড়ির লোককেই মনোনয়ন দিতে হবে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া কিংবা নোয়াখালী থেকে লোক এনে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না।

কাদের গণি চৌধুরী বলেন, দলীয় চেয়ারপারসন যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তবে এ আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে পারব। তবে দল যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়, সে ক্ষেত্রে ওই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব। তিনি দাবি করেন, ফটিকছড়ি এখন জাতীয়তাবাদী শক্তির ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

এর বাইরে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীও এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন।

আওয়ামী লীগ থেকে আরও প্রার্থিতা চাইতে পারেন সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের কন্যা ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। রফিকুল আনোয়ার এ আসনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জয়ী হয়েছিলেন। এলাকায় তার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে।

১৯৯১ সালে ফটিকছড়ি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী জয়ী হন। ২০০১ সালে তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের তৎকালীন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক রফিকুল আনোয়ারকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি জয়ী হন। এর পর সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে রফিকুল আনোয়ার ও নজিবুল বশরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। এতে রফিকুল আনোয়ার জয়ী হন। এর পর নজিবুল বশর তরিকত ফেডারেশন গঠন করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে