ফুল রপ্তানিতে নীতিমালা চান উদ্যোক্তারা

  গোলাম রাব্বানী

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশ থেকে ফুল রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবছর গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার ফুল রপ্তানি হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুই লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান। রপ্তানি যেমন আরও বাড়ানো সম্ভব, তেমনি অর্থনীতিতে এর ভূমিকা আরও বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু সরকারের কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে এই খাতের বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। ফুল রপ্তানিতে কোনো নীতিমালা না থাকায় এখন সবজির নামেই ফুল রপ্তানি হচ্ছে।

শ্রদ্ধা, ভালোবাসার প্রকাশ করা হয় ফুলের মাধ্যমে। আনন্দ উৎসবেও এখন থাকে ফুলের ছড়াছড়ি। বলতে গেলে সব কিছুতেই ফুলের বিচরণ। ফুলের এই বহুমুখী ব্যবহার বছরজুড়েই চলে। ফুলের এই চাহিদা মেটাতে যেমন চাষ বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়েও এখন ফুলের দোকান গড়ে উঠেছে। এগুলোয় যেমন কর্মসংস্থান বাড়ছে, তেমনি অর্থনীতিতেও রাখছে বড় ভূমিকা।

উদ্যোক্তারা জানান, দেশে বছরে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়। শতভাগ মূল্য সংযোজনকারী এই পণ্য দেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে। তবে ফুল নামে নয়, ‘সবজি’ নামেই রপ্তানি হয়। সবজি রপ্তানির বিপরীতে উদ্যোক্তারা ২০ শতাংশ নগদ আর্থিক সহায়তা পান। ফুল রপ্তানির ক্ষেত্রেও এই হারে সহায়তা পান। কিন্তু সবজির চেয়ে ফুল রপ্তানির ব্যবস্থাপনা অনেক কঠিন। যে কারণে ফুল রপ্তানিতে আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন উদ্যোক্তারা। বহুবার আবেদন-নিবেদন করেও ফুল রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা যায়নি।

সবজি দ্রুত পচে যায় না, কিন্তু ফুল দ্রুত পচে যায়। এ কারণে উদ্যোক্তারা সবজি রপ্তানির চেয়ে ফুল রপ্তানিতে বেশি সহায়তা দেওয়ার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা ফ্রিজিং কাভার্ডভ্যান সহজলভ্য করা, ফুল প্যাকেজিং ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। এগুলো করলে ফুল রপ্তানির ক্ষেত্রে যথাযথ মান বজায় রাখা সম্ভব হবে। তখন রপ্তানির পরিমাণও বাড়ানো যাবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ফুলের কদর ও চাহিদা বাড়ছে। চাহিদার পুরোটা রপ্তানি করা যাচ্ছে না। ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, চীন, হল্যান্ড ফুলকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ খাতের বিকাশে তারা নানা সুবিধাও দিচ্ছে। ফলে এই খাত থেকে তারা মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। কিন্তু বাংলাদেশে এর কিছুই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ফুল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি এম আহসানউল্লাহ বলেন, ফুল একটি স্পর্শকাতর পণ্য। রপ্তানি করতে হলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে ফুল উৎপাদনের জায়গা হলে ভালো হয়। তা হলে বাগান থেকে প্যাকিং করে দ্রুত রপ্তানি করা সম্ভব। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। বিমানবন্দরে ফুলের কার্টন এলেও অনেক সময় ফ্লাইট দেরি হওয়ার কারণে ফুল নষ্ট হচ্ছে। বিদেশের বাজারও হাতছাড়া হচ্ছে। বিমানবন্দরে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল নেই। যে কারণে ফুল রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, ফুল গবেষণাকেন্দ্র স্থাপিত হলে টিস্যু কালচার, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার বিষয়গুলো নিশ্চিত হবে। দক্ষ জনবল তৈরি করলে এটি অগ্রসরমাণ খাত হিসেবে পরিণত হবে। যশোরের ঝিকরগাছা ও সাভারে ফুল গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি।

বাংলাদেশ হর্টিকালচার ফাউন্ডেশন পানের সঙ্গে ফুলের রপ্তানি আয়ের হিসাব রাখে। সেখানেও ফুল আলাদাভাবে কোনো বিভাগ নয়। বিভিন্ন সংস্থা ফুলকে একটি কৃষিজাত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে ফুলের ব্যাপারে আলাদা নজর নেই কোনো সংস্থার।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়। শুধু ঢাকা শহরেই ৫০-৫৫টি স্থায়ী এবং ২০০-২৫০টি অস্থায়ী দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়।

বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ শুরু হয়। বর্তমানে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ ২৪টি জেলায় ফুল চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ ফুল উৎপাদন হয় ফুলরাজ্য হিসেবে পরিচিত যশোর জেলার গদখালী এলাকায়।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬০ হাজার টন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৭ হাজার টন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫০ হাজার টন ফুল উৎপাদিত হয়েছিল। দেশের বাজারে শুধু ফেব্রুয়ারিতেই ৩০ কোটি টাকার ফুল কেনাবেচা হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে