হঠাৎ অশান্ত বরিশালের তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

  বরিশাল প্রতিনিধি

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হঠাৎ অশান্ত হয়ে উঠেছে। গত রবিবার দুপুরে দফায় দফায় হামলা-সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল সরকারি কলেজ ও সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে। বরিশাল কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ হয়। বর্তমানে তিন প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। তারা হলেন মো. রিপন ও মো. শিহাব। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা মহিউদ্দিন আহম্মেদ শিফাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রূপাতলীর কাঁঠালতলা এলাকায় একটি ভবনে মেস করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা থাকেন। শিবিরের কর্মী রিপন ও শিহাব থাকেন ওই মেসে। সেখানকার কয়েক ছাত্র রয়েছেন ছাত্রলীগের সমর্থক। তারা গত বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় যেতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মিছিলে যোগ দেন। এ কারণে শিবিরের কর্মী রিপন ও শিহাব মেসে থাকা ছাত্রলীগ সমর্থকদের লাঞ্ছিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের মারধর করেছে।

সরকারি বরিশাল কলেজে রবিবার দুপুরে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মী রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টিপু ও তার সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা ছাত্রলীগের কর্মী হৃদয়কে মারধর করে। এরপর দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। কিছু সময় পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে সটকে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজে থাকা ছাত্রদলের সব ব্যানার-পোস্টার খুলে ও ছিঁড়ে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টিপুর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করে।

অন্যদিকে রবিবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিমের অনুসারী বিএম কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতদের সংঘর্ষ ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে তিন বহিরাগতকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সংঘর্ষে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের দুই কর্মী রাজিব হাসান (২৪) ও মিরাজ হোসেন (২১) গুরুতর আহত হন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে