বাড়ছে ফাটল বাড়ছে ব্যয়

  তাওহীদুল ইসলাম

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৫৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু সেতুর পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর সেতু মুক্তারপুর। চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়িত সেতুর নাম ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু। দিনের পর দিন এ সেতুতে ফাটল বাড়ছে। ফলে বেড়ে যাচ্ছে মেরামত খরচও। ফাটলের পরিমাণ বেশি বাড়ায় এখন চুক্তির অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে।

জানা গেছে, ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলার মধ্যে সরাসরি যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর ওপর ১৫২১ মিটার দীর্ঘ মুক্তারপুর সেতুর নির্মাণকাজ ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়। এ সেতুর কারণে মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের অঞ্চলগুলো থেকে ঢাকা মহানগরীতে শাক-সবজি ফলমূলসহ অন্য কৃষিপণ্য সহজেই পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রবার/পট বিয়ারিং প্রতিস্থাপন, এক্সপানশন জয়েন্টের মেরামত এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক যন্ত্র স্থাপনের ডিজাইন পরীক্ষায় একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হয়। ওই টিমের সুপারিশ অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষর হয়। কিন্তু ফাটলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এখন চুক্তির অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

এর আগে চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারের সুপারিশ ছিলÑ সেতুতে সকল রবার বিয়ারিং টলারেন্স নির্ধারিত সীমারেখার বেশি সরে গেছে। তাই সব রবার বিয়ারিং প্রতিস্থাপন করতে হবে। এর প্রাক্কলিত মূল্য ২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেতুর ৩৬০টি রবার বিয়ারিংয়ের মধ্যে ৭২টিতে ক্র্যাক হয়েছে। সুপারিশ করা হয়েছে এগুলো দ্রুত অপসারণের। আর ভূমিকম্পের হাত থেকে রক্ষার জন্য ন্যূনতম ৬২১ মিটার সিঙ্গেল বক্স গার্ডার অংশের ফ্রি পিয়ারগুলোয় ভূমিকম্প প্রতিরোধক যন্ত্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এসব কাজের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিমূল্যের ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। তাই ক্র্যাক হওয়া ৭২টি রবার বিয়ারিংয়ের মধ্যে অবশিষ্ট ৫৭টি এ কাজের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আপাতত ১৪ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি করে বিশেষজ্ঞ টিমের তত্ত্বাবধানে সেতুর কোন পিয়ারে কতটি বিয়ারিং প্রতিস্থাপন দরকার তা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এ শর্তে সম্প্রতি সংশোধিত চুক্তিমূল্যের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

সেতু বিভাগের তথ্যমতে, মুক্তারপুর সেতু নিয়ে ঠিকাদারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৭ নম্বর পিয়ারের ১২টি রবার বিয়ারিংয়ে অধিক ফাটল দেখা যাচ্ছে। ফলে চুক্তির অতিরিক্ত ৯টি রবার বিয়ারিং কেনা প্রয়োজন। এতে করে ক্র্যাক হওয়া ৭২টি রবার বিয়ারিংয়ের মধ্যে ৪৮টি অবশিষ্ট থাকবে। এ অতিরিক্ত ৯টি রবার বিয়ারিং কেনা ও প্রতিস্থাপনে চুক্তিমূল্যের অতিরিক্ত ৬১ লাখ ৪২ হাজার টাকা দরকার হচ্ছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ১৪.৪৬ শতাংশ। মানে চুক্তিমূল্য ৪ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার ৭৯৮ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ যুক্ত হয়ে এখন খরচ দাঁড়াচ্ছে ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৯৫০ টাকা।

সূত্রমতে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) নির্মিত বক্স গার্ডারের সেতুটি ২ লেনের। ২৭টি স্প্যান এবং ১২৬টি পাইল রয়েছে সেতুটিতে। সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ২০১৬ সালে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশিষ্ট টিম গঠন করা হয়। এর পর গত বছরও এ নিয়ে নানা ধাপে পর্যালোচনা চলে। সব শেষে এখন চুক্তির অতিরিক্ত খরচ ধরে ফাটল মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করা যায়নি। সাংবাদিক প্রবেশে বাধার কারণে বক্তব্য নেওয়া যায়নি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কবীর আহমেদের।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) এম কায়সারুল ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সচিবের নির্দেশনায় সাংবাদিক প্রবেশে এই কড়াকড়ি। তবে কাক্সিক্ষত কর্মকর্তার অনুমতি মিললে ভেতরে যাওয়া সম্ভব। যদিও ‘ওপরের চাপ’-এর শঙ্কায় কর্মকর্তারা ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে