প্লাস্টিক দানার পরিবর্তে বালু

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজপত্র অনুযায়ী চীন থেকে আনা চার কনটেইনারে থাকার কথা প্লাস্টিক দানা (এইচডিপিই)। সে অনুযায়ী আমদানিকারকের প্রতিনিধি বন্দর চত্বর থেকে কনটেইনার খুলে পণ্য খালাস নিতে ট্রাক নিয়ে হাজির হন। গতকাল বুধবার দুপুরে কনটেইনারের দরজা খোলার পর দেখা যায়, সেখানে সারি সারি বালুর বস্তা।

আমদানি পণ্য খালাস পর্যায়ে পরীক্ষা করার সময় এমন ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনস্টাফিং শাখার কর্মকর্তারা এ ঘটনা শনাক্ত করেন।

কাস্টমস সূত্র জানায়, চীন থেকে চার কনটেইনারে করে এই প্লাস্টিক দানা আমদানি করে ঢাকার আমদানিকারক আরএসডি এন্টারপ্রাইজ। এই চার কনটেইনারে থাকার কথা ছিল দুই হাজার ৭২০ ব্যাগে ৬৮ হাজার কেজি প্লাস্টিক দানা। ইসলামী ব্যাংকে এই পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছিল। পণ্য আমদানির পর বাংলাদেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে ৭০ হাজার ৩৮০ ডলার চীনে রপ্তানিকারকের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যাংকে পাঠানো হয়। পণ্য খালাস নেওয়ার জন্য আমদানিকারক কাস্টম হাউসে ১৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা শুল্ক করও পরিশোধ করেন।

কাস্টমসের উপকমিশনার শাকিল খন্দকার জানান, চার কনটেইনার খুলে প্লাস্টিক দানার কোনো বস্তা পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে দুই হাজার ২০ বস্তা বালু। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ধরনের ঘটনায় আমদানিকারকের মুদ্রাপাচার বা রপ্তানিকারকের প্রতারণা ঘটতে পারে। তবে এই চালানটিতে কোনটি ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানতে চাইলে আমদানিকারকের প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট গ্রিন ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার এবিএম ফজলে শাহী বলেন, রপ্তানিকারকই এ প্রতারণা করেছে। কারণ মুদ্রাপাচারের মনোভাব থাকলে পণ্যের দামের এক-তৃতীয়াংশ শুল্ক-কর পরিশোধ করে তারা পণ্য খালাস নিতে যেতেন না। এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে যে টাকা চীনের ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে তা ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্লাস্টিক দানা দিয়ে পলিব্যাগ, প্লাস্টিক পণ্য, নাইলনের জালসহ বহু ধরনের পণ্য তৈরি হয়। রপ্তানিকারকরা এই প্লাস্টিক দানা ব্যবহার করে রপ্তানি পোশাক সুরক্ষিত রাখার জন্য পলিব্যাগ তৈরি করেন। বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা অবশ্য বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পণ্য তৈরি করার জন্যই আমদানি করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে