বড় দুই দলের তৃণমূলে গ্রুপিং

  সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ, ঝিনাইদহ

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ (শৈলকুপা)-১ আসনটি ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপির টার্গেট আসনটি পুনরুদ্ধার করা। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্তত সাতজন। অন্যদিকে বিএনপির সাবেক এমপি, উপজেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল ওহাব দুদকের মামলায় আট বছরের দ-প্রাপ্ত হওয়ায় বিএনপিতে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই গত তিন সংসদ নির্বাচনে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে গ্রুপিং রয়েছে। গ্রুপিংয়ের কারণে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে অসংখ্যবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানি ঘটে বেশ কয়েকজনের আর আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন আবদুল হাই এমপি। এ ছাড়া এলাকায় গণসংযোগ করছেন বিশ্বাস বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলাল বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিম-লীর সদস্য অধ্যক্ষ কামারুজ্জামানের মেয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও প্রাইম ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মীর সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী জোয়ার্দ্দার, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক আবেদ আলী, প্রিয়াংকা গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের (আসাফ) কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইদুর রহমান সজল প্রমুখ।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিনজনের মধ্যে গত বছর ৩০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল ওহাবকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় যশোরের বিশেষ আদালত আট বছরের সাজা দেন। তবে তিনি উচ্চতর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তিনি ছাড়াও দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কু-ু।

এ আসন থেকে অন্য কোনো দলের প্রার্থী প্রচারণায় না থাকলেও জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য মনিকা আলম প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন।

[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ ংঃধৎঃ: ]ইগ০থ৩থথএড়ইধপশ[জঞঋ নড়ড়শসধৎশ বহফ: ]ইগ০থ৩থথএড়ইধপশশৈলকুপা উপজেলার এক পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-১ আসন। মোট ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ২৪২ জন। এর মধ্যে মহিলা ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৭৭ এবং পুরুষ ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৫ জন।

বিগত নির্বাচনগুলো বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির আবদুল ওহাব ৬৩ হাজার ৬৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মো. কামারুজ্জামান পান ৪৬ হাজার ২৯ ভোট। জামায়াতের সিরাজ আলী পান ১১ হাজার ৯২৬ ভোট। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির আবদুল ওহাব ৭৫ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মো. কামারুজ্জামান পান ৬৮ হাজার ৫১৪ ভোট, জায়ামাতের আবু তৈয়ব পান ৫ হাজার ৯৪৫ ভোট। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল হাই ৯২ হাজার ৬৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর বিএনপির আবদুল ওহাব পান ৯২ হাজার ৩০৬ ভোট। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল হাই ১ লাখ ৯ হাজার ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আবদুল ওহাব পান ৮৫ হাজার ৮৯৯ ভোট। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল হাই ১ লাখ ১১ হাজার ১৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নায়েব আলী জোয়ার্দ্দার পান ১৮ হাজার ৬২ ভোট।

শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শিকদার মোশারোফ হোসেন সোনা মনে করেন, ঝিনাইদহ-১ আসন ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের হাতছাড়া ছিল। দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুল হাইয়ের জয়লাভের মাধ্যমে আসনটি ফিরে পায় আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ দুটি নির্বাচনেও আবদুল হাই জয়লাভ করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নু বলেন, আবদুল হাই এ আসনে টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত এ আসনে তার বিকল্প নেতা তৈরি হয়নি, যিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন বা বিজয়ী হতে পারেন।

সংসদ সদস্য আবদুল হাই জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলে গ্রুপিং প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগে ছোটখাটো গ্রুপিং থাকতেই পারে। তিনি দাবি করেন, গত ৩৮ বছরে ঝিনাইদহ-১ আসনে এমন কোনো উন্নয়ন হয়নি, যেটা গত ১৪ বছরে তার দলের পক্ষে তিনি করতে সক্ষম হয়েছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী পারভীন জামান কল্পনা বলেন, নেত্রীর নির্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছি। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেব।

মীর সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, শৈলকুপার সন্তান হিসেবে এলাকার মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করছি। নেত্রী মনোনয়ন দিলে নির্বাচন অবশ্যই করব।

তৈয়ব আলী জোয়ার্দ্দার জানান, দলের মধ্যে তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে। যে কারণে আগামী নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

নজরুল ইসলাম দুলাল বিশ্বাস জানান, দলীয় সভানেত্রী এখনো কাউকে গ্রিন সিগন্যাল দেননি। এ কারণে তিনিও মনোনয়নপ্রত্যাশী। সাইদুর রহমান সজল জানান, সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চা ও জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী।

বিএনপি নেতা আবদুল ওহাব জানান, তিনি এ আসন থেকে পাঁচবার মনোনয়ন পেয়ে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন এবং একবার সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এবারও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং দল তাকেই মনোনয়ন দেবে বলে তার বিশ্বাস।

আ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, আগামী নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তার মতে, বড় দল হিসেবে শৈলকুপা বিএনপিতে গ্রুপিং থাকতেই পারে। এ ছাড়া আবদুল ওহাব পরপর দুবার হারার পর নেতাকর্মীরা হতাশায় রয়েছেন। বিএনপি দলীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ সব নেতাকর্মীই তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ।

জয়ন্ত কুমার কু-ু বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলাম। এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছি। এ ছাড়া এলাকার ভোটার, দলীয় নেতাকর্মীরা তরুণ নেতৃত্ব ও প্রার্থিতায় পরিবর্তন চায়। সে বিবেচনা থেকেই আমি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে