প্রণোদনার টাকায় আগ্রহ নেই ক্ষতিগ্রস্তদের

  আবু আলী

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়নের টাকার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। ফলে দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও তেমন সাড়া মিলছে না। এমনকি সুদের হার কমিয়েও সাড়া মিলছে না বিনিয়োগকারীদের। প্রণোদনার টাকার জন্য আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সুদের হারও কমানো হয়েছে। এর পরও ২৫৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা অলস পড়ে রয়েছে। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক গত ৫ ফেব্রুয়ারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের কাছে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকারদের ঋণ বিতরণের সার্বিক কার্যক্রমসংক্রান্ত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আইসিবির এমডির পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণ বিতরণে সুদের হার কমানো এবং তহবিলের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ব্রোকারদের অবহিত করতে দুটি জাতীয় বাংলা দৈনিক ও একটি ইংরেজি দৈনিকে এবং আইসিবির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া টেলিফোন ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ও এইমস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, প্রথম দিকে শর্তের কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বিনিয়োগকারীরা। পরবর্তী সময়ে বাজার ভালো না হওয়ায় আর সেদিকে নজর নেই তাদের।

জানা গেছে, বাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতি ও ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া বিভিন্ন শর্তের কারণে সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুফল নিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে। ফলে সরকারি এ প্রণোদনার উদ্দেশ্য বিফলে যেতে বসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজারের বর্তমান নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে সরকারি তহবিলের ঋণ সুবিধা নেওয়ার আগ্রহ বিনিয়োগকারীদের নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিভিন্নভাবে গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা নিতে উদ্বুদ্ধ করলেও তারা যোগাযোগ করছেন না। যেসব গ্রাহকের পোর্টফোলিও এরই মধ্যে ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে, নতুন করে অর্থ সংস্থানে তারা আগ্রহী নয়। এ ঋণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে এ ধরনের শর্তে নতুন ঋণ নিতেও বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, প্রথম দিকে আমরা এ ঋণ নেওয়ার জন্য ঘুরেছি কিন্তু নানা ধরনের শর্তের কারণে পাইনি। এখন ঋণের সুদের হার কমেছে। ফলে আমরা ব্যাংক থেকেই ঋণ নেওয়া সহজ মনে করছি।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ধসে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সরকারি হিসাবে ৯ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে মাত্র ২৯ হাজার ঋণ সুবিধা নিয়েছেন। তবে তাদের কেউ-ই শেষ পর্যন্ত ক্ষতি পোষাতে পারেননি বলে দাবি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে ধস নামলে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী ব্যাপকহারে পুঁজি হারান। ধসের পর ২০১১ সালের নভেম্বরে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এরই অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশেষ স্কিম ঘোষণা করেন ২০১২ সালের ৫ মার্চ। এ স্কিমের আওতায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সমুদয় মার্জিন ঋণ পৃথক ব্লক হিসেবে নিয়ে ৯ শতাংশ সরল সুদে ১২টি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। এ ছাড়া এক বছরের মার্জিন ঋণের অর্ধেক মওকুফ করার কথাও বলা হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
close