ফাগুনের গানে ভালোবাসার টানে

  চপল মাহমুদ

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাগুনের আবেশে উচ্ছ্বসিত ভালোবাসা দিবস, অন্যদিকে প্রাণের বইমেলা। দুইয়ে মিলে যেন রঙিন হয়ে উঠেছিল পুরো মেলা প্রাঙ্গণ। তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আর প্রিয়জনের হাতে হাত, চোখে চোখ রেখে বইয়ের মধ্য দিয়ে প্রেমের সেতুবন্ধ তৈরির এক চেষ্টা। প্রিয় লেখকের পছন্দের বইটি না কিনে বাড়ি ফেরেননি ভালোবাসার যুগলরা। ভালোবাসার উচ্ছলতা আর উচ্ছ্বাসের ঢেউ আছড়ে পড়েছে গ্রন্থমেলার দুই প্রাঙ্গণেই। একগুচ্ছ লাল গোলাপের সঙ্গে নতুন বই তুলে দিয়ে প্রিয়জনকে অনেকেই খুশি করেছেন বসন্তের হলুদছোঁয়া ভালোবাসায়। তবে কেবল লাল গোলাপ আর বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না বইমেলা আর ভালোবাসা দিবসের আমেজ। মেলায় আসা প্রায় প্রত্যেকেরই সাজে ছিল ভালোবাসার রঙের ছোঁয়া। প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে তরুণীরা সেজেছেন নানা রঙে। পরনে শাড়ি, মাথায় রঙিন ফুলের মুকুট, গলায় মালা, হাতে-খোঁপায় ফুল; তরুণদের গায়ে পাঞ্জাবি। মুখে হাসি, চলনে উচ্ছ্বাস। এভাবেই দলে দলে তরুণ-তরুণী হাতে হাত রেখে ঘুরছেন বাংলা একাডেমি আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে। সেই সঙ্গে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ভ্যালেন্টাইনের স্মৃতি ফ্রেমে বন্দি করে রাখতে মুঠোফোনে সেলফি তুলতে ভুলছেন না কেউই। গতকাল বুধবার ছিল মেলার ১৪তম দিন। ভালোবাসার এই দিনে বিকাল ৩টায় মেলার গেট উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকেই মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। প্রিয়জনকে নিয়ে মেলায় আসতে শুরু করেছেন নানা বয়সী মানুষ। তাদের মধ্যে তরুণ-তরুণীরাই ছিল বেশি। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে প্রেমিক যুগলের পদচারণায় মুখর হয়ে ছিল মেলা শেষ অবধি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব বয়সী মানুষের আগমনে পুরো বইমেলা পরিণত হয় মিলনমেলায়।

সে কথারই যেন প্রতিধ্বনি মিলল বাঙলা কলেজ থেকে আসা দুই শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান ও মাহিমার হাসিমাখা উত্তরে। মেহেদি হাসান জানাল, সে মাহিমার জন্য মহাদেব সাহার ‘কোন মন্ত্রবলে অন্ধকারে আলো জ্বলে’ কবিতার বইটি কিনেছে। আরও বই খুঁজছে।

এদিকে একাধিক প্রকাশক জানান, পয়লা ফাগুন, ভালোবাসা দিবসের প্রভাবেই অন্যান্য দিনের চেয়ে মেলায় বই বিক্রিও ভালো। ভালোবাসা দিবসে ক্রেতাদের পছন্দের ক্ষেত্রে কবিতা ও উপন্যাসই ছিল শীর্ষে। হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলনসহ খ্যাতিমান লেখকদের কবিতা ও উপন্যাসই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বুধবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ছিল ১৪তম দিন। এইদিনে মেলা চলে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ১৯২টি।

আজকের আয়োজন : আজ বৃহস্পতিবার গ্রন্থমেলার ১৫তম দিন। মেলা চলবে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় গ্রন্থ মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আহমদ কবির, সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ এবং এম আবদুল আলীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে