• অারও

স্বর্ণপাচারের ক্যারিয়ার বিমানের ১৮ কর্মচারী

  গোলাম সাত্তার রনি

২২ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৮, ০১:৩৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশি-বিদেশি একাধিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে স্বর্ণপাচার। শুধু রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই নয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও রয়েছে পাচারকারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ বিমান ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একাধিক রাজনৈতিক নেতা এই নেটওয়ার্কের সদস্য। আন্তর্জাতিক মাফিয়ারা বাংলাদেশিদের সঙ্গে আঁতাত করে স্বর্ণপাচার করে আসছে। কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে স্বর্ণপাচারের ক্যারিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এসব সিন্ডিকেটকে সহায়তা করে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮ কর্মচারীও। তাদের মূল হোতা বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিসের প্যানট্রিম্যান (বিএফসিসি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম।

গত ১৫ মার্চ শাহজালাল বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ পালকি থেকে ৯ কেজি ৩০০ গ্রাম স্বর্ণপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিমানের ফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিসের প্যানট্রিম্যান শাহিনুর ইসলাম ও খন্দকার রুহুল আমিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন। পুলিশ, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও এসব তথ্যের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। ইতোমধ্যে তারা স্বর্ণ চোরাকারবারিদের পাশাপাশি বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শনাক্ত করেছেন। তবে মূল ক্যারিয়ার মো. ইফতেখারুল ইসলাম এখনো অধরা বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের জেরার মুখে বিমানের প্যানট্রিম্যান শাহিনুর ইসলাম ও খন্দকার রুহুল আমিন জানান, বিএফসিসির ক্যাজুয়াল পেনট্রিম্যান ইফতেখারুলের নির্দেশনায় চক্রটি বিমানের টয়লেট থেকে চোরাইভাবে আনা স্বর্ণবার সংগ্রহ করে। সেগুলো লুকিয়ে রাখে উচ্ছিষ্ট খাবারের ট্রেতে। এর পর কমিশনে দফারফা হলে স্বর্ণবার কৌশলে বাইরে এনে নির্ধারিত এজেন্টের কাছে তুলে দেয়। পরে সেই এজেন্ট অবৈধ স্বর্ণগুলোর মূল মালিকের কাছে পৌঁছে দেন। যদিও এই মূল মালিকের পরিচয় বা কারা এই স্বর্ণ বুঝে পাবেন তা জানতে পারেন না চোরাচালানকারী ক্যাটারিং শাখার কর্মচারীরা। ঘটনার সময় ইফতেখারুল ছিলেন না। এ পর্যন্ত পলাতক তিনি।

জানা গেছে, যাদের কাছে চোরাচালানকৃত স্বর্ণ তুলে দেওয়া হয় তালিকাভুক্ত সেই কারবারিরা বেশ প্রভাবশালী। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও তাদের রয়েছে রাজনৈতিক কানেকশন। এদের ছবিসহ জীবনবৃত্তান্ত সব কটি বিমানবন্দরে থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কৌশলে তারা বাহকের মাধ্যমে স্বর্ণের চালান পার করে দিচ্ছেন। এদের অন্যতম একজন ফিরোজ আলম। বর্তমানে তিনি দুবাই অবস্থান করছেন। তিনি যে পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ১৭ বার আসা-যাওয়া করেছেন। মাঝেমধ্যে ঢাকায় এসে ওঠেন মিরপুর ডিওএইচএসে।

আরেক স্বর্ণ পাচারকারী মো. আনিসের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। তিনি গত আট মাসে ১৯ বার দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতে ভ্রমণ করেছেন। মোহাম্মদ ওয়াহেদুজ্জামান নামে আরেক কারবারির বাসা সায়েদাবাদ। প্রায়ই তিনি দুবাই থাকলেও বর্তমানে অবস্থান করছেন সিঙ্গাপুরে। আবদুল আউয়াল নামে এক চোরাকারবারির সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতার যোগাযোগ রয়েছে। স্বর্ণপাচার চক্রের আরেক সদস্য হলেন ফারুক আহম্মেদ। বর্তমানে তিনি অবস্থান করছেন দুবাই। এ ছাড়া সোহেল রানা, সুমন সারোয়ার, খলিল রহমানও চক্রের অন্যতম। গত তিন বছরে তারা অন্তত ৩৬ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছে।

বিমানবন্দর থানার ওসি নুর-ই আজম জানান, চোরাই স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার বিমানের ক্যাটারিং শাখার দুই কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তারা এই চক্রের বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের ক্যারিয়ারের নাম বলেছেন। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে