আ.লীগ-বিএনপিতে নতুনদের উঁকিঝুঁকি

  শিমুল চৌধুরী, ভোলা

২৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-২ আসন। এটির সংসদীয় আসন নম্বর ১১৬। এ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৩। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি এ আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে এমপি হন ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।

এ ছাড়া এ আসনে ১৯৭০ ও ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে দুবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ভাষাসৈনিক মরহুম রেজা-এ-করিম চৌধুরী (চুন্নু মিয়া)। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ। এ আসনটি তার নিজস্ব আসন বলেই পরিচিত। ১৯৮৮ সালে এমপি হন জাতীয় পার্টি নেতা মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে হাইকমান্ড সিদ্দিক। ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে এ আসনটি ফের আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। তখন এমপি নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। ২০০১ সালে আসনটি দখলে নেয় বিএনপি। এমপি হন হাফিজ ইব্রাহিম। ২০০৮ সালে ফের এমপি হন তোফায়েল আহমেদ। এর পর তিনি তার ভাতিজা আলী আজম মুকুলকে আসনটি ছেড়ে দেন। ছেড়ে দেওয়া আসনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এমপি হন আলী আজম মুকুল। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। আগামী নির্বাচনে এ দল থেকে নতুন মুখ হিসেবে ড. আশিকুর রহমান শান্ত মনোনয়ন পাওয়ার আশা করছেন। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ আবুল কালাম আজাদও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ আসনে বিএনপি তথা ২০-দলীয় জোট থেকে সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম এবারও মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়া নতুন কিছু মুখ এ আসনে নির্বাচন করার জন্য উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন। তারা হলেনÑ ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী, ফুটবলার আমিনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর এম আলম ও রফিকুল ইসলাম মমিন।

ভোলা-২ আসন এখন পুরোপুরিই নির্বাচনমুখী। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও বিজেপিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে তদবির-লবিং করছেন। পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। ভোটারদের সঙ্গেও মতবিনিময় করছেন।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগদলীয় এমপি আলী আজম মুকুল এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। তিনি ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ের চিত্র; নিয়মিত মতবিনিময় করছেন তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে। গণসংযোগ করতে গিয়ে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে বর্তমানে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে আলী আজম মুকুল এমপি বলেন, পাখি কখনো ডাল ভাঙার ভয় করে না। সে ভরসা রাখে ডানার ওপর। আমিও ডাল ভাঙার ভয় করি না। আমার ভরসা আল্লাহর ওপর। আর জমিনে ভরসা সাধারণ মানুষের ওপর। আমি তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই আমাকে নির্বাচিত করবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এলে অনেক জায়গাতেই নতুনরা উঁকিঝুঁকি দেন। এখানেও তারা উঁকিঝুঁকি দেবেন, এটাই স্বাভাবিক।

এ আসনে ২০-দলীয় জোটের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। তাদের নির্বাচনী কর্মকা- তেমন চোখে পড়ছে না। বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রায় চুপচাপ রয়েছেন। পদ-পদবি নিয়ে দলটিতে রয়েছে বিরোধ ও চাপা ক্ষোভ।

এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এইচএম জাকির হোসেন বলেন, ২০-দলীয় জোট থেকে সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিমই একক প্রার্থী। তবে সরকারি দলের হামলা-মামলার ভয়ে দলের নেতাকর্মীরা অনেকটা চুপচাপ রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পদ-পদবি নিয়ে দলে আগে কিঝুটা কোন্দল থাকলেও এখন নেই।

হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, আমি দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। তাই তারা আমার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। এখানে অন্য কোনো প্রার্থীর দৃশ্যত কোনো অস্তিত্ব নেই।

আগামী নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা কেফায়েত উল্যাহ নজীব ও মিজানুর রহমান প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তারা কেউ এলাকায় গণসংযোগে নেই।

ভোলা-২ আসনে জামায়াতের কর্মকা- চলছে ধীরগতিতে। জাতীয় নির্বাচনে সব সময়ই জামায়াত ২০-দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষেই শক্তভাবে কাজ করেন। তবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলায় দলটির কার্যক্রম থমকে পড়েছে। নেতাকর্মীরাও আপাতত নিষ্ক্রিয়। তবে আবুল বসারের নেতৃত্বে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জামায়াত কিছুটা সংগঠিত। তারা ওই উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে এবং পৌরসভার পাশের একটি দাখিল মাদ্রাসায় নিয়মিত সভা করছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করতে গোপনে চলছে কমিটি গঠন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে