খাদ্যে ভেজালকারী চক্র বেপরোয়া

ঢাকায় অর্ধশত কারখানায় নকল সেমাই উৎপাদন # বাড়তি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছে র্যাব

  হাবিব রহমান

১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন রমজান ও ঈদকে টার্গেট করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে খাদ্যে ভেজালকারী চক্র। নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্যকে ভেজাল উপায়ে উৎদপাদন শেষে মজুদ করা হচ্ছে। আসলের আড়ালে এসব নকল পণ্য বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে চক্রের সদস্যরা। তবে এদের ধরতে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করছে এলিট ফোর্স র্যাব ও বিএসটিআই। এরই মধ্যে বাড়তি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে র্যাব।

সূত্র জানায়, রাজধানীতে অন্তত অর্ধশত নকল ও ভেজাল সেমাই উৎপাদনে যুক্ত কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাব। এর বেশিরভাগেরই অবস্থান মোহাম্মাদপুর, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, ইসলামপুর, কদমতলী ও হাজারীবাগে। এখন ভেজাল খাদ্যপণ্যের গুদাম শনাক্তে কাজ করছেন র্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা। শিগগিরই শুরু হবে অভিযান। তবে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দিয়ে বিভিন্ন মৌসুমি ফল পাকানো চক্রকে ধরতে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে সংস্থাটি।

রমজান এলেই সবচেয়ে জমে ওঠে ইফতারির বাজার। প্রথম রোজা থেকেই চোখে পড়বে ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত হোটেল এবং পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী ইফতারির পসরা। তবে ক্ষতিকারক রাসায়নিকসহ পচা বাসি খাবার বন্ধে মাঠে সক্রিয় থাকবেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভেজাল ধরা পড়লেই গুনতে হবে জরিমানা। এমনকি বন্ধও হয়ে যেতে পারে ওইসব খাবারের দোকান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভেজালকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বছরই প্রশাসনের এক ধরনের অসাধু কর্তাদের মাসোহারা দিয়ে নির্বিঘেœ অপকর্ম চালিয়ে যায়। আর রোজা ও ঈদ এলে তাদের অপতৎপরতা বেড়ে যায় বহুগুণ। বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে ভেজাল পণ্য ছড়িয়ে দেয়। নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদনে শীর্ষে থাকে সেমাই, পাউরুটি, ঘি, গুড়, নুডল্স, দুধ, মসলার মতো পণ্য।

রাজধানীর হাজারীবাগের একটি অবৈধ কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর, নোংরা, স্যাঁসেঁতে পরিবেশ। কোনো গ্লাভস বা পোশাক ছাড়াই প্রচ- গরমের মধ্যে বানানো হচ্ছে সেমাইয়ের খামির। এতে শ্রমিকের খালি গা থেকে গড়িয়ে পড়ছে ঘাম। পোড়া তেলে ভাজার পর নোংরা ফ্লোরে সেগুলো জড়ো করা হচ্ছে। উৎপাদনের কোনো নিয়মনীতিই মানা হচ্ছে না। এমন অসংখ্য কারখানাই রয়েছে রাজধানীর আশপাশে।

র্যাবের পরিসংখ্যান বলছে, ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ২০১৭ সালে ৩৩৫টি অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে সরাসরি জেল-জরিমানা করা হয়। এসব ঘটনায় মামলা হয় ৫৪১টি। এতে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৫৪ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এবারও র্যাব, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), বিএসপির পাশাপাশি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রমজান ও ঈদের ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ঠেকাতে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি গণমাধ্যমে চলবে সচেতনতাবিষয়ক প্রচার।

এ বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সারা বছরই ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করি। রোজা ও ঈদ উপলক্ষে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংকট রয়েছে। বাড়তি ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য আমরা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান আমাদের সময়কে বলেন, রোজা ও ঈদের সময় অতি মুনফালোভী চক্রের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। প্রথমত সাবধান হতে হবে ক্রেতাদের। দ্বিতীয়ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। তৃতীয়ত কেউ এ ধরনের অপকর্ম দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।

এদিকে মৌসুমি ফল পাকাতে ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কেমিক্যাল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার কারওয়ানবাজারে অভিযান চালিয়ে কাঁচাকে পাকানোর অভিযোগে ৪০০ মণ আম ধ্বংস করেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে