এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণ

সোয়া চার লাখ আবেদন

  এমএইচ রবিন

১৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিগত ১০ বছরে সর্বনিম্ন পাসের হার এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়। বেশি খারাপ ফল হয়েছে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে। তাই ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনও বেশি পড়েছে এ দুই বিষয়ে। সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৫১৬টি আবেদন জমা পড়েছে পুনর্নিরীক্ষণের।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক আমাদের সময়কে বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে। এবার গণিত ও ইংরেজিতে পাসের হার কম হওয়ায় এ দুটি বিষয়ে আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর ৭৯, ৬৯ ইত্যাদি নম্বর পেয়েছে। তাদের আবেদনের সংখ্যাও প্রচুর।

বোর্ডের নিয়মানুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণত চারটি বিষয় দেখা হয়। এগুলো হলোÑ উত্তরপত্রে সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কিনা; প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক হয়েছে কিনা; প্রাপ্ত নম্বর ও এমআর শিটে

উঠানো হয়েছে কিনা; এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা? এসব বিষয় পরীক্ষা করেই পুনর্নিরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। পুনর্নিরীক্ষণ মানে খাতা পুনরায় মূল্যায়ন না।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার জানান, আগামী ৩১ মে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে।

গত ৬ মে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ৭ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষার আবেদনের সুযোগ ছিল।

বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বোর্ডের ৬৩ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী এক লাখ ৪১ হাজার ৪০০ বিষয়ে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। আবেদনের শীর্ষে রয়েছে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে। রাজশাহী বোর্ডে ২১ হাজার ১৭৬ শিক্ষার্থী ৪০ হাজার ৯৬৮টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে সাত হাজার ২৬২ জন, ইংরেজি ১ম পত্রে তিন হাজার ২৪১ ও দ্বিতীয় পত্রে দুই হাজার ৮৬৪ জন। দিনাজপুর বোর্ডে ১৭ হাজার ৮০৮ শিক্ষার্থী ৩৪ হাজার ৮৫৩টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এ বোর্ডেও আবেদনের শীর্ষে গণিত। এ বিষয়ে আবেদনের সংখ্যা ছয় হাজার ২০৬টি। ইংরেজি ১ম পত্রে তিন হাজার ১৯৫ ও দ্বিতীয় পত্রে দুই হাজার ৯০৪ জন আবেদন করেছে। কুমিল্লা বোর্ডে ১৬ হাজার ৮৩৭ জন ৩৬ হাজার ৭৮৪টি বিষয়ে আবেদন করেছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডে ২৩ হাজার ৩৮০ শিক্ষার্থী ৫৩ হাজার ৫৩০টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এ বোর্ডে গণিতে সাত হাজার ৫৫ জন। ইংরেজি ১ম পত্রে পাঁচ হাজার ৭৮২ ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার ৬৫৪ জন আবেদন করেছে। সিলেট বোর্ডে ১০ হাজার ৬৭৮ শিক্ষার্থী ২০ হাজার ৪৫৭টি আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে পাঁচ হাজার ৯৫ জন। ইংরেজিতে তিন হাজার ৫০৩ জন আবেদন করেছে। যশোর বোর্ডে ১৯ হাজার ৪১১ শিক্ষার্থী ৩৮ হাজার ৫৩টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে পাঁচ হাজার ৫৭৯টি। ইংরেজি ১ম পত্রে চার হাজার দুটি ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার ৬৮০টি। মাদ্রাসা বোর্ডে ২১ হাজার ৭৫৬ শিক্ষার্থী ৩৫ হাজার ৮৮৯টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এ বোর্ডেও ফল চ্যালেঞ্জের শীর্ষে গণিত। আবেদনের সংখ্যা ১১ হাজার ৭৯৩টি। আর ইংরেজিতে ১ হাজার ৮৪৭টি।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. আজাদ অভিযোগ করেন, কলেজগুলোয় ভর্তির জন্য জিপিএ-৫ শর্তজুড়ে দেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করার সুযোগ পায় না। অথচ অনেক শিক্ষার্থী যারা এক নম্বরের জন্য জিপিএ-৫ পায়নি। তাদের ফল সঠিক পুনর্নিরীক্ষণ করা উচিত বোর্ডের।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে