এবার আসছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান

অস্ত্রধারীদের তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে জনপ্রতিনিধিরা আতঙ্কে

  হাসান আল জাভেদ

২৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ মে ২০১৮, ০৯:৫৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাদকের বিরুদ্ধে ‘চরম পন্থার’ পর এবার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অ্যাকশনে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে মাদক ব্যবসায়ী-গডফাদারদের মতো অবৈধ অস্ত্রধারী ও চোরাকারবারিদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন টার্গেটে রেখে খুব শিগগির সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছে-চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ছিনতাই, জমি দখল ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে তুচ্ছ ঘটনায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তারে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্রাস্ত্র ব্যবহার বা প্রদর্শন করছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ২৫টি রুট দিয়ে আসছে পিস্তল-রিভলভার। মিয়ানমার হয়ে সে দেশের বর্ডার গার্ড বাহিনীর সহায়তায় আসছে ভারী অস্ত্র। এই অস্ত্র ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। পাড়া-মহল্লায় র্যাব-পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেই মিলছে এসব অবৈধ অস্ত্র। আর এই অস্ত্র ব্যবহার করে বাড়ছে খুনোখুনি ও সামাজিক অস্থিরতা। আগামী

ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংসদ নির্বাচন ঘিরে অস্ত্রের ঝনঝনানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সরকারি দলের একজন জনপ্রতিনিধি তার এলাকার অস্ত্রবাজদের তৎপরতার ভয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণলায়ের শরণাপন্ন হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ওই নেতার অভিযোগ, সাম্প্রতিক চিহ্নিত সন্ত্রাসী-অস্ত্রধারীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর অবস্থানে না গেলে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসব অবৈধ অস্ত্র ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আমাদের সময়কে বলেন, পৃথিবীর যে দেশেই মাদকের উত্থান রয়েছে, সেখানেই অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি ভিন্নকাজেও সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। আমাদের র্যাব-পুলিশ বিভিন্ন সময় এসব অস্ত্রধারীকে আইনের আওতায় আনছে। জঙ্গিবাদ দমনে আমরা সফল হয়েছি। তেমনি মাদক ও অবৈধ অস্ত্র বন্ধেও আমরা সফল হব।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র বলছে, সীমান্ত দিয়ে পাচার হওয়া অস্ত্র ছাড়াও বৈধ অস্ত্রধারীদের অস্ত্র ভাড়ায় খাটছে। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিলেই ভাড়ায় মেলে পিস্তল-রিভলভার। অবৈধ অস্ত্রের গায়ের নম্বর টেম্পারিং (ঘষাঘষি) করে নিখুঁতভাবে বৈধ অস্ত্রের নম্বর বসিয়ে ব্যবহারের কৌশল গ্রহণ করছে একটি চক্র। আবার ৩০-৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেও ক্ষুদ্রাস্ত্রের হোম সার্ভিস মিলছে। পুলিশের তালিকায় রাজধানী শহরসহ সারাদেশে দুই শতাধিক অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসায়ীর তালিকা রয়েছে। তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নামও।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, যারা মাদক ব্যবসায়ী বিশেষ করে ইয়াবা চোরাচালানে জড়িত, তাদের অনেকেই অস্ত্র ব্যবসায়ও জড়িত। নির্বিঘেœ মাদক ব্যবসা করতে অবৈধভাবে অস্ত্র দখলে রেখেছে তারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, একসময় আঞ্চলিক গডফাদার, রাজধানী শহরের একেকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। তাদের সাঙ্গোপাঙ্গোরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করত। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতকর্মীই সন্ত্রাসের ভূমিকায়। আধিপত্য বিস্তার বা প্রতিপক্ষ দমনে তারা অস্ত্র ব্যবহার করছে। এসব ছোট অস্ত্রের কিছু উদ্ধার হলেও বেশিরভাগই চলে যাচ্ছে নানা উপায়ে অপরাধীদের হাতে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে দীর্ঘ সময় ধরে সাঁড়াশি অভিযান না থাকায় অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারা দেশে সাড়ে ৫ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিপরীতে ২ হাজার ২০৮টি মামলা দায়ের হয়। তবে উদ্ধার বা আটকের অধিকাংশ মামলাই বিচারাধীন। সূত্র বলছে, আইনের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে মামলার বিচারে ধীরগতি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিচার হচ্ছে না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে