বানের জলে ভেসে গেছে তাদের ঈদ আনন্দ

  আমাদের সময় ডেস্ক

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ০১:১৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের প্রস্তুতির ঠিক আগ মুহূর্তেই প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভেসে গেছে। অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত, পুকুরের মাছ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ওইসব এলাকার মানুষ।

খাগড়াছড়ি : পাহাড় ধস ও সড়কের পানি উঠায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সেই সঙ্গে নদী ভাঙন আতঙ্কে তীরবাসী। আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা থমকে গেছে খাগড়াছড়ির মানুষের ঈদ আনন্দ। তবে খাগড়াছড়ি সদর ও মহালছড়ির বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও দীঘিনালায় অপরিবর্তিত। এখনো ডুবে আছে মেরুং হাসপাতাল, মেরুং পুলিশ ফাঁড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ মেরুং বাজারের তিন শতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। তিন দিন ধরে এই এলাকা বিদ্যুৎহীন। ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ।

দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা জানান, উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। বিভিন্ন আশ্রয় শিবির ও স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে উঠেছে দুই হাজার পরিবার। তবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে সবার কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

ফুলগাজী (ফেনী) : কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ত্রিপুরার পাহাড়ি ঢলে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ফেনীর ফুলগাজীর মোট ছয়টি স্থানে মুহুরি নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে তলিয়ে যায় সদর ইউনিয়নের বণিকপাড়া, উত্তর বরইয়া, দক্ষিণ বরইয়া, উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর, বিজয়পুর, ঘনিয়ামোড়া, জয়পুর ও মুন্সীর হাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রাম।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কোহিনুর আলম জানান, ভারি বর্ষণ ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢল একযোগে মুহুরী নদীতে প্রবেশ করায় প্রবল স্রোতে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। পানি এখন বিপদসীমার ৩০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি শুকিয়ে গেলেই বাঁধ পুনর্নির্মাণ করা হবে।

মৌলভীবাজার : টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে জেলার কুলাউড়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বিপদসীমার ১৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মনু নদের পানি। টিলাগাঁও, পৃথিমপাশা ও শরীফপুর ইউনিয়নের পাঁচটি জায়গার বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় সব গ্রামই প্লাবিত হয়েছে। আর কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই নদীর বাঁধের দুটি জায়গায় ভাঙনে প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। বর্তমানে ধলই নদীর পানি ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হবিগঞ্জ : খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মধ্যে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে