চট্টগ্রামে বেতন হয়নি ২ শতাধিক গার্মেন্টসে

  মো. মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:২৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরনো ছবি
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকদের গত রবিবারের মধ্যে বেতন এবং আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে বোনাস দেওয়ার কথা। কিন্তু চট্টগ্রামে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র অধীন দুই শতাধিক পোশাক কারখানার ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক গতকাল বুধবার পর্যন্ত বেতনই পাননি। আর বোনাস হয়নি তিনশর বেশি গার্মেন্টসে।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ইপিজেড, কেইপিজেড, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ মিলে চট্টগ্রামে এক হাজার ৯৮টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৮৪ কারখানায় বেতন ও ৬২১ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে ৩১৪ কারখানায় বেতন ও ৪৭৭ কারখানায় বোনাস বাকি রয়েছে। এক হাজার ৯৮ কারখানার মধ্যে পোশাক কারখানা রয়েছে ৬৪৭টি। এর মধ্যে বিজিএমইএ’র অন্তর্ভুক্ত ৩৫৯ কারখানার মধ্যে ২২১টিতে বেতন ও ১৩৫ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিজিএমইএ’র আওতাধীন ১৪৮ কারখানায় বেতন ও ২২৪ কারখানায় বোনাস দেওয়া বাকি রয়েছে। এ ছাড়া নন-আরএমজি ৪৪৩ কারখানার মধ্যে ৩৫৯টিতে

বেতন ও ৩০১ কারখানায় বোনাস দেওয়া হয়েছে। ৪৪টিতে বেতন ও ১৪২ কারখানার শ্রমিকরা বোনাস পাননি।

শিল্প পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে বেতন-বোনাস বাকি রয়েছে অথবা কেবল বোনাস বাকি সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতের মধ্যে বেতন ও আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে বোনাস পরিশোধ করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। রমজানের শুরুতে এবারের ঈদে বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি রয়েছে এমন ৮২ কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এসব কারখানায় যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ করে সে জন্য কড়া নজরদারি শুরু করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মমতাজ আমাদের সময়কে জানান, সিইপিজেড ও কেইপিজে এলাকায় প্রায় ৯৮ শতাংশ কারখানার শ্রমিকরা বেতন-বোনাস পেয়েছেন। তবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ অধিভুক্ত দুই শতাধিক কারখানায় বেতন ও তিন শতাধিত কারখানায় বোনাস বাকি রয়েছে। বেতন-বোনাস পরিশোধ করার জন্য আমরা নিয়মিত মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করি আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব কারখানায় বেতন-বোনাস দিতে পারবে।

বিজিএমইএ পরিচালক মাহবুব চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, বিজিএমইএ অধীন বেশিরভাগ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে বোনাস দেওয়ার জন্য কারখানা মালিকদের বলেছি। এ জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বিকেএমইএ’র সিনিয়র যুগ্ম সচিব মো. আলতাফ উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, বেশিরভাগ কারখানায় বেতন দেওয়া হয়ে গেছে। কিছু কারখানায় বোনাসও দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আজকের মধ্যে বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে পারবেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে