রাশিয়া ডেতে রেড স্কয়ারে

  মাইদুল আলম বাবু, মস্কো থেকে

১৪ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ জুন ২০১৮, ০০:২৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রেমলিন দেখার পর রেড স্কয়ার দেখব না তা তো হয় না। বিকালে কাজ শেষে রওনা হলাম রেড স্কয়ারে। মেট্রো রেলে চেপে গেলাম। চমৎকার বিকাল। আমি সৌভাগ্যবান। বিশেষ একদিনে রেড স্কয়ারে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। সেদিন ছিল রাশিয়া ডে। হাজার হাজার রুশ নাগরিক স্কয়ারে মিলিত হয়েছিল।

ক্রেমলিনের পাশেই রেড স্কয়ার। দূরত্ব মাত্র ২.৩ কিলোমিটার। হাঁটাপথে ৯ থেকে দশ মিনিটের দূরত্ব। রেড স্কয়ারের নজরকাড়া স্থাপত্যশৈলী আপনাকে বিস্মিত করবে। এখানে শায়িত রয়েছেন কমিউনিস্ট নেতা ভøাদিমির লেনিন। বিপ্লবী চেতনায় পৃথিবীর ইতিহাসকে বদলে দিয়েছিলেন এ বিপ্লবী লেনিন। বিশাল এ বিপ্লবীর দেহটা অনেক ছোট মনে হবে। এমনিতেও তিনি ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার। বিপ্লবের এ জনকের সমাধি কিন্তু ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকাভুক্ত। সেই সঙ্গে পর্যটকদের সেরা গন্তব্য বলেও বিবেচিত হয়।

চারদিকে নান্দনিক সব ভাস্কর্য দেখে আপনার চোখে জুড়িয়ে যাবে। আছে মুজিওন পার্ক অব আর্টস। এদিকে সেদিকে যেখানেই যান না কেন, সব জায়গাকেই ভ্রমণের স্থান বলে মনে হবে।

মেট্রো রেল থেকে স্কয়ারের স্টেশনে নামলাম। দেখি প্রায় কয়েকটি দেশের সমর্থক গাইছে। স্থানীয় পুলিশ জায়গাটি ঘিরে রেখেছে। পাশে বানানো হয়েছে বিশাল মঞ্চ। দেশাত্মবোধক গান চলছে। স্থানীয় একজন বলল রাতে আতশবাতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাস পড়তে গিয়ে রেড স্কয়ারের কথা অনেক শুনেছি। এবার নিজের চোখে দেখে আর বিশ্বাস হচ্ছিল না। একে তো বিশ্বকাপ আবার তার মধ্যে রাশিয়ান ডেÑ সব মিলিয়ে উৎসবের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল জায়গাটি। রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করব কিনা ভাবছি। এদিকে পেটে ইঁদুর দৌড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় এক রেস্টুরেন্ট দেখে প্রবেশ করলাম। লুজনিকি স্টেডিয়ামের আশপাশে ভালো খাবারের দোকান নেই। সব ফাস্টফুডের দোকান। নদীর পাশে আইসক্রিমের দোকান ছাড়া আর কিছু নেই। রেড স্কয়ারে সে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে ভাতের জন্য মেন্যুতে হামলে পড়লাম। নাহ! কোথাও ভাত নেই। অগত্যা স্যামন মাছ খেয়ে বেরিয়ে এলাম। মস্কোভা নদীর পাশেই রেড স্কয়ার। হাজার হাজার নর-নারী হাজির আতশবাজি দেখতে। আমিও দাঁড়িয়ে রইলাম। অবাক বিস্ময়ে রাতের আতশবাজি দেখে মুগ্ধ হলাম। বেশিক্ষণ থাকলাম না। গভীর রাতে হোটেলে ফিরলাম।

জাতি হিসেবে রুশরা যে দারুণ ঐক্যবদ্ধ এ রাশিয়ান ডেতে আমার উপলব্ধি হলো।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে