কারাগারেই যেতে হলো পিবিআই ইন্সপেক্টরকে

  নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

২০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ জুন ২০১৮, ০৮:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় জামিন

আবেদন নামঞ্জুর করে ফেনী জেলা পিবিআইয়ের ইন্সúেক্টর ও কুতুবদিয়া থানার সাবেক ওসি আলতাফ হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১-এর বিচারক মীর শফিকুল আলম।

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জামিলা আকতার নামে এক নারীর করা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন আলতাফ হোসেন। শুনানি শেষে দুপুর ১২টার দিকে জামিন নামঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

বাদী জামিলা আকতার কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ছিন্নি খাইয়ারপাড়া এলাকার ইস্কান্দার মির্জার স্ত্রী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভাব-অনটনের কারণে ২০১৪ সালের ১৮ জুন সকালে বড়ঘোপ ছিন্নি খাইয়ারপাড়ায় মৃত নজির আহম্মদের ছেলে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী ফরিদুল আলমকে হত্যা করেন তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ডেজি ও ছেলে অহিদুল আলম (রিয়াদ)। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম থানায় মামলা করতে গেলে কুতুবদিয়া থানার তৎকালীন ওসি আলতাফ হোসেন এক লাখ টাকা দাবি করেন। ছেলে হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় ওই বৃদ্ধা এসআই এবিএম কামালউদ্দিনের মাধ্যমে

আলতাফ হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু আলতাফ হোসেন নুরজাহানের করা এজাহারটি আমলে না নিয়ে উল্টো নিহতের ছেলে অহিদুল আলমের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে একটি মামলা নেন। ওই মামলায় নিহতের মা বৃদ্ধা নুরজাহান এবং দুই ভাই ইস্কান্দর মির্জা ও মাহবুব আলমকে আসামি করা হয়। সেই মামলায় দুই ভাই দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। এ নিয়ে ইস্কান্দর মির্জার স্ত্রী জামিলা আকতার বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ওসি আলতাফ ও এসআই এবিএম কামালউদ্দিনকে আসামি করে মামলা করেন।

এ বিষয়ে দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক সাদিকুল ইসলাম তালুকদার মামলাটি আমলে নিয়ে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ ওসি এবং এসআই দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অজয় ঘোষ। এর পর তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওসি আলতাফ হোসেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।

আবদুর রহিম আরও জানান, ওসি আলতাফ আত্মসমর্পণের সময় সঙ্গে বাদীকে নিয়ে আসেন। বাদী মামলাটি সামাজিকভাবে সুরাহা করা হয়েছে বলে আদালতে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে আদালত ওসির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৬ জুন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে