উত্তরায় সিন্ডিকেটের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

রাইড শেয়ারিংয়ে ইয়াবাও!

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ জুন ২০১৮, ০০:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঢাকার মাদকব্যবসায়ীদের কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাইড শেয়ারিং অ্যাপস পাঠাও রাইডারদের ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এর সঙ্গে পাঠাও চালকদের বেশ কয়েকজন জড়িত। এদের একজন রানা আহম্মেদ ওরফে রাজু (২৫)।

গত শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১২ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঠাওয়ের চালক রানাসহ ৪ মাদকব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার অন্যরা হলো কক্সবাজারের ইফতেখারুল ইসলাম (২৫), উত্তরার ওই ভবনের কেয়ারটেকার অলি আহম্মেদ (২৪), ওষুধ কোম্পানির ইনফরমেশন অফিসার মোস্তফা কামাল। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ২০ হাজার পিস ইয়াবা, ৮টি মোবাইল ফোন ও একটি মোটরসাইকেল।

গতকাল রবিবার দুপুরে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাব-৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকায় ঢাকার মাদকব্যবসায়ীরা ইয়াবার চালান আনতে কক্সবাজার যেতে চায় না। মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যারিয়ারদের চলাচলও সীমিত হয়েছে। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি কতিপয় মাদকব্যবসায়ী কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ইয়াবার একটি চালান এনে ঢাকার উত্তরায় একটি ফ্ল্যাটে মজুদ করেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে উত্তরার ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঠাওয়ের চালক রানাসহ চার মাদকব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ইফতেখার জানান, উখিয়ার একটি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তিনি। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উখিয়ার স্থানীয় কিছু যুবকের বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে তিনিও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি নিজে মাদক ব্যবসা করার পাশাপাশি কক্সবাজারের মাদকব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে স্থানীয় যুবক ও রোহিঙ্গাদের ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করতেন। কক্সবাজার থেকে রাজধানীর উত্তরা ও আশপাশের মাদকব্যবসায়ীদের ইয়াবা সরবরাহের কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন ইফতেখার।

গ্রেপ্তার অলি আহম্মেদের গ্রামের বাড়ি উখিয়ার রাজাপালংয়ে। উত্তরার ফজিলত প্রোপার্টিজ নামে একটি নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করতেন। অলি যে ভবনে কেয়ারটেকারের কাজ করেন সেখানেই ইয়াবা মজুদ করতেন। পরে মাদকব্যবসায়ীদের কাছে তা পৌঁছে দিতেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তফা কামাল জানান, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিক্যাল ইনফরমেশন অফিসার হিসেবে কাজ করেন তিনি। মোটা অঙ্কের টাকার লোভে তিনি ইয়াবা পরিবহনের কাজেও যুক্ত হয়ে পড়েন। কক্সবাজার থেকে ইয়াবার ঢাকায় একটি চালান পৌঁছাতে পারলেই তিনি পেতেন ২০ হাজার টাকা। আর রানা আহম্মেদ রাইড শেয়ারিং অ্যাপস পাঠাওয়ের একজন রাইডার। তিনি ইয়াবা মাদকব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

এমরানুল হাসান আরও বলেন, কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকার কয়েকজন মাদকব্যবসায়ীর যোগসাজশের তথ্য ও তাদের নামধাম পেয়েছি আমরা। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ ছাড়া পাঠাওয়ের চালকদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার তথ্যও মিলেছে। তাদের ব্যাপারে তথ্য পেতে পাঠাওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মাদক পরিবহনে পাঠাওয়ের চালক ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের ব্যবহারের তথ্য পাওয়ায় এ সংক্রান্ত মামলাটি র্যাব-৩ তদন্ত করবে বলেও জানান র্যাব ৩-এর সিও।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে