আজ শুরু দ্বিতীয় টেস্ট

ওয়ালশের জন্মভূমিতে মান বাঁচানোর আশা

  সুসান্ত উৎসব

১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর কঠিন হবে। এটা জানাই ছিল। তাই বলে এতটা কঠিনতর?

অ্যান্টিগা টেস্টে লজ্জাজনক হারের পর বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে! সিনিয়র ক্রিকেটারদের হতশ্রী পারফরম্যান্সে হতাশ টাইগার সমর্থকরা। আড়াই দিনেই শেষ বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্ট। ইনিংস ও ২১৯ রানে হার টাইগারদের। আজ থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। বাংলাদেশের জন্য এটি মান বাঁচানোর ম্যাচ। জ্যামাইকা টেস্ট জিতলে ড্র (১-১) দিয়ে শেষ হবে সিরিজ। হারলে ধবলধোলাই। টাইগাররা বেশ ভালোভাবেই জানেন তা। আর সে কারণেই ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলছেন। অ্যান্টিগা টেস্ট হারের পর তামিম বলেছেন, ‘পরের ম্যাচে এর চেয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা চান, ড্র দিয়ে টেস্ট সিরিজ শেষ করতে। তবে কাজটা সহজ হবে না। জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে টাইগারদের অতীত ইতিহাস মোটেও সুখকর নয়। এর আগে খেলা তিন টেস্টেই ‘ভয়ংকর’ অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হাবিবুল বাশার-মাশরাফি মুর্তজা-মুশফিকুর রহিমকে।

জ্যামাইকায় বাংলাদেশ দল প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ২০০৪ সালে। বাশারের নেতৃত্বে মাঠে নামা ওই টেস্টে ইনিংস ও ৯৯ রানে হার টাইগারদের। ২০০৯ সালে মাশরাফির অধিনায়কত্বে খেলা টেস্টে হার ৯৫ রানে। সবশেষ ২০১৪ সালে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ওই টেস্টে টাইগারদের হার ১০ উইকেটে। প্রায় চার বছর পর আবার জ্যামাইকায় টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ দল। এবার সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বে মাঠে নামবেন টাইগাররা। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার কি পারবেন জ্যামাইকায় বাংলাদেশের বিজয়কাব্য রচনা করতে? নাকি দলনেতা হিসেবে বাশার-মাশরাফি-মুশফিকের মতো তিনিও মাঠ ছাড়বেন মাথা নিচু করে?

দলগত পারফরম্যান্স ছাড়া জ্যামাইকা টেস্ট জেতা সম্ভব নয়! প্রথম টেস্টে তামিম, মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লাহর মতো দলের সিনিয়র কোনো ব্যাটসম্যানই জ্বলে উঠতে পারেননি। প্রত্যেকেই রোচ, গ্যাব্রিয়েলদের উইকেট ‘উপহার’ দিয়েছেন! একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন লিটন দাস (প্রথম ইনিংস) ও নুরুল হাসান সোহান (দ্বিতীয় ইনিংস)। বোলিংয়ে রুবেল-রাব্বিরা নিজেদের খুঁজে ফিরেছেন। সিরিজ বাঁচাতে হলে ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি আঁটসাট ফিল্ডিংটাও তাই জরুরি। তামিম বলেছেন, ‘জ্যামাইকাতে ১২ জুলাই থেকে আমাদের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে। একাদশে যে-ই সুযোগ পাক না কেন ভালো খেলার চেষ্টা করবে। আপনাদের (সমর্থক) একটা ভালো টেস্ট ম্যাচ দেখার অথবা আমরা নিজেরা ভালো খেলে ‘উপহার’ দেওয়ার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। তার জন্মভূমিতেই (জ্যামাইকা) মান বাঁচানোর টেস্ট খেলবেন সাকিবরা। ঘরে ফিরে খুশি ওয়ালশ। তার বিশ্বাস, ঘুরে দাঁড়াবেন শিষ্যরা। বলেছেন, ‘অ্যান্টিগার মতোই উইকেট (সবুজ সিমিং ও বাউন্সি) আশা করি। পেসারদের জন্য ভালো করার এটি আরেকটি সুযোগ। আশা করি আমরা ভালো খেলব এবং ঘুরে দাঁড়াব। আমাদের সে সামর্থ্য আছে।’

দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে আসতে পারে দুটি পরিবর্তন! মুমিনুল হক ও মেহেদী হাসান মিরাজের বদলে ইমরুল কায়েস ও নাজমুল হোসেন শান্তকে খেলানোর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

এদিকে, চোটের (হ্যামস্ট্রিংয়ে টান) কারণে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারছেন না কেমার রোচ। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে উইন্ডিজের এই পেসার একাই ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপ। ৫ ওভারের স্পেলে ৮ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। ফিজিও পরামর্শে বিশ্রামে তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে