sara

ধুঁকছে চামড়াশিল্প

  গোলাম রাব্বানী

১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১৪:৪১ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধুঁকছে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হলেও তা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। বিপুল চাহিদা ও নিজস্ব কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও পণ্যের জোগান দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এ জন্য তারা দায়ী করছেন সঠিক পরিকল্পনার অভাব ও অবকাঠামোগত সমস্যাকে।

ট্যানারিশিল্প সাভারে স্থানান্তর, সেখানে যথাযথ অবকাঠামো গড়ে না ওঠা, কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা ও নতুন বিনিয়োগ না হওয়াসহ নানা কারণে বাজার হারাচ্ছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। এ অবস্থায় ২০২১ সালের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য শুধু কল্পনাতেই থেকে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রপ্তানি আয়ের হিসাবে তৈরি পোশাকশিল্পের পরই চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের অবস্থান। এ শিল্পের কাঁচামাল তথা চামড়া দেশেই উৎপাদিত হওয়ায় খাতটি আমদানিনির্ভর নয়। চামড়ার গুণগত মান উন্নত হওয়ায় এর চাহিদাও ব্যাপক। পাদুকা উৎপাদনে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে সপ্তম হয়েছে। সুযোগ রয়েছে আরও এগিয়ে যাওয়ার। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও পাদুকা রপ্তানিতে আয় বাড়ছে।

এ খাতের ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, নিজস্ব কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও এ খাতের বিকাশ হচ্ছে না শুধু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে। আগে পরিবেশ দূষণের কারণ দেখিয়ে চামড়া রপ্তানি আদেশ না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে পারছেন না তারা।

রাজধানীর হাজারীবাগে ২৫০টি ট্যানারি থাকলেও সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে প্লট মাত্র ১৫৫টি। ফলে সেখানে স্থানান্তরের কারণে ১০০টি ট্যানারি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া সাভারে নতুন করে সংস্কারের ফলে সরাসরি উৎপাদনে যেতে পারেনি অনেক ট্যানারি। আর শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুবিধা এখনো গড়ে না ওঠার কারণে তারাও সাভারে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ১৩৮ কোটি ডলারের বিপরীতে আয় হয়েছে ১০৮ কোটি ডলার; যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ কম।

চামড়া রপ্তানিতে ২৪ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে রপ্তানি হয়েছে ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার; যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। চামড়াজাত পণ্য থেকে ৫৪ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার; যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৪৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর জুতা ও অন্যান্য পণ্যে গত অর্থবছরে ৬০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৫৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয় ৫৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, ‘সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর হওয়ার ফলে ১০০টির মতো কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহসহ নানা বিষয়ে বিপাকে পড়তে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়ে ২০২১ সালে এ খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি আয় অসম্ভব। নতুন শিল্পনগরীর প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। কিন্তু উদ্যোগগুলোর কোনোটাই বাস্তবমুখী নয়।’ সংস্কারের জন্য ট্যানারি মালিকরা ব্যাংকঋণও পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।

সম্ভাবনার বিচারে পাদুকাশিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহিন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ট্যানারি স্বাস্থ্যকর ও কাজের পরিবেশ ভালো করার পরও রপ্তানি আয় কমছে। এর ফলে বুঝতে হবে, পরিকল্পনার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা না হলে এ খাত থেকে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে