‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিএনপি, আ.লীগ বলছে ‘নাটক’

সিলেট

  সজল ছত্রী, সিলেট

১৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৮, ১০:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

বুধবার মধ্যরাতে নগরীর বন্দরবাজারে পোস্টার সাঁটানো নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জনাকয়েক কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। আওয়ামী লীগ কর্মীরা পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ করলে বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ লোকমান নামের একজনকে আটক করে। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন সদ্যসাবেক মেয়র ও বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে চেয়ার নিয়ে পুলিশফাঁড়ির সামনে বসে থাকেন তিনি। তার আধা ঘণ্টার অবস্থানে বাধ্য হয়ে পুলিশ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিলে নিজ গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান আরিফ। সেখানে তিনি বলেন, গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমার কর্মীদের এভাবে মারধর ও হয়রানি করা হচ্ছে, যাতে তারা প্রচার চালাতে না পারেন এবং ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে না যান।

শুধু আরিফুল হক চৌধুরী নন, স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা ও আরিফের সমর্থকরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সবকিছুতেই ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ পাচ্ছেন। অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, পরাজয় আঁচ করতে পেরে ‘নাটকীয়তা’ করার চেষ্টা করছেন বিএনপির প্রার্থী। এমন নাটক আরও দেখা যেতে পারে।

সিলেট সিটিতে দলীয় ও ২০-দলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সদ্য দল থেকে বহিষ্কৃত মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। ২০-দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীও তাদের মহানগর আমিরকে প্রার্থী করেছে। এ নিয়ে চাপে আছেন বিএনপির প্রার্থী।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, দলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া স্পষ্টই সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ। আর জামায়াতের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের কারণেই জামায়াতের লোক প্রার্থী হয়েছেন।

প্রায় একই বক্তব্য মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের। তবে তার মতে, বিগত নির্বাচনে জয়ী বিএনপি প্রার্থীকে এবার তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে হবে।

অন্যদিকে বিএনপির এসব দাবিকে তাদের রাজনৈতিক দৈন্য বলছে আওয়ামী লীগ। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের নিজেদের মধ্যে শৃঙ্খলা নেই, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নেই। এ জন্য সরকারকে দায়ী করা রাজনৈতিক দৈন্য। আর বন্দরবাজারের ঘটনাটি নাটক ছাড়া কিছু নয়। দুদল সমর্থক বা কর্মীর মধ্যে কিছু ঘটা খুব অস্বাভাবিক নয়। সে জন্য তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করেছেন ঠিক আছে; কিন্তু মধ্যরাতে চেয়ার নিয়ে রাস্তায় বসে পড়া, এটা নাটকীয়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, পরাজয় আঁচ করতে পেরে অনেক প্রার্থী নাটক শুরু করেছেন। তারা আমাদের বিরুদ্ধে অনেকে অপপ্রচারও করছেন। হয়তো নির্বাচনের আগে আরও অনেক নাটক দেখা যেতে পারে। কিন্তু নাটক বা অপপ্রচারে কোনো কাজ হবে না। কেননা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ, উন্নয়নের পক্ষে নগরবাসীও ঐক্যবদ্ধ।

দিনভর প্রার্থীদের গণসংযোগ : আনুষ্ঠানিক প্রচারণার বাধা কেটে যেতেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠেছে সিলেট নগরী। প্রার্থীরা দিনরাত চালাচ্ছেন প্রচরণা। তাদের পক্ষেও অনেকে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করছেন। চলছে মাইকিং আর পোস্টার-ব্যানার লাগানোর তোড়জোড়ও।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বৃহস্পতিবার নগরীর চোহাট্টা থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় তার সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

একইদিন দুপুরে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় গণসংযোগে দেখা যায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যান তিনি।

নাগরিক কমিটি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম বৃহস্পতিবারই কোর্ট পয়েন্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরু করেন। এছাড়া অন্যান্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণায় বৃহস্পতিবার মুখর ছিল সিলেটের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে