বিএনপির অভিযোগ

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতেই ইভিএম

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৮, ১১:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে সরকারের নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন ২৬শ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দৈনিক আমাদের সময়ে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন ইভিএম চালুর মাধ্যমে আরেকটি বড় ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথে এগোচ্ছে।

আগামী সংসদ নির্বাচনে ১০০টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রথম পর্যায়ে ২৬শ কোটি টাকার ইভিএম কেনার পরিকল্পনা চলছে।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, কবীর মুরাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল খান, শামসুজ্জামান সুরুজ প্রমুখ।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের আপত্তির পরও তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন কমিশনের ইভিএম কেনা ও আমদানি করার দুরভিসন্ধিমূলক। আমরা মনে করি এটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চক্রান্তের পথে অগ্রসর হওয়ার অংশ।

রিজভী বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে বড় পরিসরে ইভিএমে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে আড়াই হাজার মেশিন কেনা হয়েছে, বাকি মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। আমরা বলতে চাই, দেশের মানুষ ইভিএম মানতে নারাজ। ভোটাধিকার হরণের এ পদ্ধতি ব্যবহার হবে চুপিসারে ডিজিটাল অন্তর্ঘাত। আমরা আবারও সংসদ নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে জনদাবির বিপক্ষের সিদ্ধান্ত থেকে নির্বাচন কমিশনকে সরে আসার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দলবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে কমিশন পুনর্গঠনের দাবিও জানান রিজভী। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জার্মানি, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ইভিএম মেসিন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় এটি বাতিল করার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০১৩ সালে সিটি নির্বাচনে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেটে কেবল দুটি করে কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়। রাজশাহী সিটির টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে ইভিএমে ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন হয়, ভোট গণনা করতে না পারায় সেখানে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। শামসুল হুদা কমিশন ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করলে ভোট গণনায় ত্রুটি ধরা পড়ে। কে এম নুরুল হুদা কমিশন দায়িত্বে এসে পুরনো ইভিএম পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন প্রবর্তিত ইভিএমে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪১ নম্বর কেন্দ্রে ব্যবহার করে। কিন্তু সেখানেও ত্রুটি দেখা দেয়। এর পর গত গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণে ত্রুটির ফলে ভোটাররা ভোগান্তিতে পড়ে। এর পরও কমিশন বর্তমানে নতুন উদ্যোমে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে ইভিএম আমদানি করছে আগামী জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচনের জন্য।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনগুলো নিয়ে সফটওয়্যার প্রোগ্রামাররা বলেছেন, ইভিএম বিদ্বেষমূলক প্রোগ্রামিংয়ের জন্য ভালনারেবল এবং যে কোনো মুহূর্তে হ্যাকাররা মেশিনটি হ্যাক করে ভোট গণনাকে খুব সহজেই টেম্পারিং করতে পারে। গত বছর ভারতে কীভাবে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট কারসাজি হয়েছে, সেটি ছবিসহ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবিসির সে সময়ের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভারতের মধ্য প্রদেশে ইভিএম এ ভোট দেওয়া হয় একজনকে, কিন্তু ভোট চলে যায় ক্ষমতাসীনদের প্রতীকে। সে সময় ভারতের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দেশটির নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে