আদালতের আদেশ অমান্য

চলাচলের রাস্তা দখল করে নিল কেএসআরএম

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

২১ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সীতাকু- উপজেলার বাড়বকু-ে রাজা আম্বিয়া ঢালা সড়ক দখল করে দেওয়াল নির্মাণ করেছে কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (কেএসআরএম) কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার ভোরে বাড়বকু- ইউনিয়নের আনোয়ারা জুট মিল সংলগ্ন সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তাটি দখলে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এতে স্থানীয় প্রশাসন সহযোগিতা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এদিকে তিন গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তা দখলে নেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় জনগণ। তাদের অভিযোগ, শত বছরের পুরনো রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে তিন গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বে। কারণ ঢাকা-চট্টগ্রামের পূর্ব পাশে অবস্থিত পাহাড়ে কৃষি কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। আর এখানে উৎপাদিত সবজি চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদার অংশ যোগান দেয়।

জানা যায়, স্থানীয়দের দায়ের করা একটি মামলায় আদালত আগামীকাল (রবিবার) শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এর আগে ওই জায়গায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সীতাকু- থানাকে আদেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। উক্ত নির্দেশনার কথা জানিয়ে গত ১৭ জুলাই উভয়পক্ষকে চিঠি দেন সীতাকু- থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান। কিন্তু এর তিনদিনের মাথায় কেএসআরএম এলাকার মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাস্তা দখলে নিলেও কোন পদক্ষেপ নেননি ওসি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ জনগণের চলাচলের রাস্তা দখলে নিতে পারেন এমন গুঞ্জনে কয়েকদিন ধরেই রাত জেগে পাহারা বসান স্থানীয়রা। গত বৃহস্পতিবার রাতেও ওই স্থানে অবস্থান নেন কয়েক হাজার মানুষ। ফজরের আজান হলে তারা চলে যান। এই সুযোগে রাস্তাটি বন্ধ করে ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়।

স্থানীয় জয়নাল ভুঁইয়া জানান, দেয়াল নির্মাণের খবর পেয়ে এলাকাবাসী ছুটে আসেন। কিন্তু কেএসআরএম কর্তৃপক্ষের ভাড়া করা সশস্ত্র লোকজন নিরীহ এলাকাবাসীর ওপর হামলা করে। এতে ভয়ে এলাকার মানুষ আর কাছে যেতে পারেননি। পরে শত শত কৃষক ও এলাকাবাসী কেএসআরএম কারখানায় প্রবেশের রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে থানায় অভিযোগ করলে কয়েকজন পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যান।

সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে কেএসআরএম’র ডিএমডি মো. শাহরিয়ার জানান, সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা দখল করা হয়নি। এটি আনোয়ারা জুট মিলে যাবার রাস্তা, যা কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ কিনে নিয়েছে। তাছাড়া মামলায় উল্লেখিত রাস্তার জমির সঙ্গে এই রাস্তার জমির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

সীতাকু- থানার ওসি ইফতেখার হাসান আমাদের সময়কে বলেন, আসলে নিলামে ওঠা আনোয়ারা জুট মিলটি কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ কিনে নেয়। তাদের জায়গায় চলাচলের রাস্তাটি ছিল। এখন তারা দখলে নিয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে