তেজগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

দুই ঘণ্টা সানশেডে লুকিয়ে ছিল ধর্ষক

  ইউসুফ সোহেল

০৫ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ০৯:৩৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাজের উদ্দেশে ফজরের আজানের আগেই বাসা থেকে বের হয়ে যান রওশন আরা। কারওয়ানবাজারের আড়তে মাল টানার কাজ করেন তিনি। আর আজানের পর নামাজের উদ্দেশে বেরিয়ে যান তার স্বামী হাসান আলী। এ সময় ঘুমে ছিল সাগরিকা তৃপ্তি (১২)। মেয়েকে না জাগিয়ে দরজা ভেজিয়ে বেরিয়ে যান হাসান আলী। তৃপ্তির ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে চাননি তিনি। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি এ জন্য চিরঘুমের দেশে চলে যাবে তার সন্তান। পাষণ্ড ধর্ষকের আক্রোশে সেই অপ্রত্যাশিত, বেদনাদায়ক ঘটনাই ঘটেছে।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও বেগুনবাড়ী এলাকায় রুবেলের বাড়ির দোতলার একটি কক্ষের মেঝে থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তৃপ্তির লাশ। সে তেজগাঁও বিজি প্রেস প্রাইমারি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।

তৃপ্তির স্বজনদের অভিযোগ, তাদের পার্শ¦বর্তী ঘরের মেস ভাড়াটিয়া আলম দাশ (২২) ধর্ষণের পর তৃপ্তিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এর পর দুই ঘণ্টা লুকিয়ে থাকে ওই ঘরেরই কার্নিশে। সকাল ৯টার দিকে নিহতের স্বজনরা ঘরের দরজা খুললে সবার চোখের সামনে দিয়েই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক।

তার পালিয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে হাতিরঝিল সংলগ্ন একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। তাতে দেখা গেছে, গোলাপি রঙের টিশার্ট আর থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরিহিত আলম দাশ সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে তৃপ্তিদের বাড়ির গলি থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে হাতিরঝিলের দিপিকার মোড়ের দিকে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া দিলেও ধরতে পারেনি। ময়নাতদন্তের জন্য তৃপ্তির মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলম দাশের মেস পার্টনার ৫ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

তৃপ্তির বাবা হাসান আলী আমাদের সময়কে জানান, উত্তর বেগুনবাড়ী সিদ্দিক মাস্টার ঢালের ৪৭ নম্বর বাসার ২য় তলায় তৃপ্তিকে নিয়ে থাকতেন তিনি ও তার স্ত্রী। কারওয়ানবাজারের বিভিন্ন আড়তে মাল টানার কাজ করেন তিনিও। ভোররাতে হাসান আলী মসজিদে যান। সকালে পাশের ঘরের ভাড়াটিয়ারা তৃপ্তির ঘর থেকে ‘ও, মাগো’ একটি চিৎকার শোনেন। সন্দেহ হলে তারা এসে তৃপ্তির বাসার সদর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে খবর দেন হাসান আলীকে।

পরে বাড়ির লোকজনদের নিয়ে ভেনটিলেটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান মেঝেতে বিবস্ত্র, অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে তৃপ্তি। এ সময় দরজায় তালা মেরে তৃপ্তিকে স্থানীয় শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ নিয়ে যায় থানায়। এদিকে দরজায় তালা পড়ায় তৃপ্তির কক্ষে আটকা পড়েন আলম।

তিনি আরও জানান, সকাল ৯টার কিছু পরে তৃপ্তির বড় বোন কুলসুম ও মুন্নিসহ অন্য নারীরা যখন দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢোকেন, তখন আলম দাশ সানশেডের ওপর থেকে হুড়মুড়িয়ে লাফিয়ে পড়েন তাদের ওপর। মুন্নিসহ উপস্থিত নারীরা পড়ে গেলে দৌড়ে পালান আলম। গতকাল বিকালে হাসান আলী যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল। পাশেই মেয়ে হারানোর শোকে আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার স্ত্রী রওশন। মুন্নির হত্যাকারীর ফাঁসি দাবি করে এই দম্পতি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই কামাল হোসেন জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে শমরিতা হাসপাতাল থেকে তৃপ্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে মেয়েটিকে। জব্দকৃত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে রুম থেকে পালিয়ে যাওয়া এক যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে