ড. কামালের সমালোচনায় ১৪ দল

  মুহম্মদ আকবর

১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৮, ১১:৩২ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের এক বৈঠকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তার সাম্প্রতিক আচরণকে সন্দেহজনক উল্লেখ করেন বৈঠকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকটি হয়। বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে গত সপ্তাহে একটি নাগরিক সংগঠনের প্রধানের শীর্ষ কর্মকর্তার বাসায় ‘গোপন’ নৈশভোজে অংশ নেওয়া এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য প্রসঙ্গে ১৪ দলের নেতারা ড. কামাল সম্পর্কে এমন মনোভাব ব্যক্ত করেন।

১৪ দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক নেতা আমাদের সময়কে জানান, ড. কামাল হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ভালো লক্ষণ নয় বলে মনে করছেন তারা। ওই নৈশভোজের বিষয়টিকেও স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে বৈঠকে মত দেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গোপনে নৈশভোজের আয়োজন করায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন জোটের তিন নেতা। তারা বলেন, ওই নৈশভোজে অংশগ্রহণকারীদের কারো কারো বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন থাকার পরও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানানো সন্দেহজনক।

বৈঠকে এ ইস্যুতে আলোচনার সূত্রপাত করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকের শুরুতে তিনি গত সোমবার ড. কামাল হোসেনের ‘দেশে গণতন্ত্র নয়; আছে গুণ্ডাতন্ত্র’ ও ‘আমাদের গুলি করে মারা হোক’ বক্তব্যের প্রতি ১৪ দলের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ষড়যন্ত্র আজকে কোথায় গেছে, ড. কামাল হোসেন যিনি নিজেকে সিনিয়র সিটিজেন দাবি করেন, তিনি কীভাবে এমন বক্তব্য রাখেন। কামাল হোসেন গুণ্ডাতন্ত্রের কথা বলে নিজেই গুণ্ডামি করছেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ১৪ দল নেতারা বলেন, (নৈশভোজ আয়োজনের) এই গোপনীয়তাই প্রমাণ করে এটি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের একটি অংশ ছিল। ড. কামাল দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করতে গলা ফাটানো শুরু করেছেন।

জোট নেতারা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে আরও একাধিক আন্দোলনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ জন্য তারা সরকারকে সচেতন থাকার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানান।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া নিয়ে জোট নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ না থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতার কথা তুলে ধরে এটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তারা। শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। কঠোর সমালোচনা করা হয় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের। গাড়ির চালকসহ পরিবহন শ্রমিকদের বেপরোয়া হওয়ার জন্য নেতারা পরোক্ষভাবে নৌমন্ত্রীকেই দায়ী করেন। শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে বৈঠকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে একটি শোকসভা করার সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আপনারা এ ক’দিন দেখেছেন, দেশের কয়েকজন নামকরা রাজনীতিবিদ কী কথা বলেছেন। উসকানিমূলক কথা বলেছেন। একজন মানুষ যখন ব্যর্থ হয় তখন তিনি আবোল-তাবোল কথা বলেন। একজন বলেছেন গুলি কর আমাকে। কে কাকে গুলি মারবে বলেন!’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনে তারা একটি লাশ চেয়েছিল। তারা লাশের ওপর ভর করে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে।’

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চোখ খুলে দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।’ লাইসেন্স ছাড়া এমপি-মন্ত্রীদের গাড়িও যাতে ছাড় না পায়, সেদিকে নজর দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করেন তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে