সাবেক স্ত্রী রোকসানা কি একাই হত্যাকারী

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০৯:২১ | প্রিন্ট সংস্করণ

চীনের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্ন করছেন রোকসানা আক্তার পপি। ফেনীর ছাগলনাইয়ার জয়পুর গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে মাইনুদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার। তবে কয়েক বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। সেই থেকে দুজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন; কিন্তু হঠাৎ করেই গত বুধবার (১৫ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ফয়’স লেক এলাকায় লেকসিটি হোটেলে রাত কাটান তারা। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মাইনুদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে রোকসানার জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তবে তিনি একা হত্যা করেছেন, নাকি তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। গতকাল শুক্রবার নগরীর ষোলশহর আল ফালাহ গলির বাসা থেকে রোকসানাকে আটক করলেও পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেননি রোকসানা। হত্যার ঘটনায় মাইনুদ্দিনের ভাই বাদী হয়ে নগরীর খুলশী থানায় মামলা করেছেন। মাইনুদ্দিন ফেনীতে বালুর ব্যবসা করতেন।

এক প্রভাবশালী প্রবাসীর মেয়ে রোকসানা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ। নগরীর আল ফালাহ গলিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও তাদের মূল বাড়ি কোথায় সেটিও জানা যায়নি। নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাকে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার দীর্ঘদিন পর সাবেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ স্থাপন হলো, কেন তারা হোটেলে রাত কাটাতে গেলেন, কী কারণে একত্রিত হয়েছেন এসব প্রশ্ন সামনে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এ ছাড়া নগরীর অভিজাত এলাকায় উন্নতমানের হোটেলে না গিয়ে অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিতর্কিত হোটেলে থাকার কারণ নিয়েও রহস্য দেখা দিয়েছে।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. আব্দুল ওয়ারিশ খান বলেন, রোকাসানা মাইনুদ্দিনের সাবেক স্ত্রী। বর্তমানে চীনের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্ন করছেন। তিনি কখন দেশে এসেছেন, কীভাবে সাবেক স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ হলো, কেন তারা একসঙ্গে থাকতে গেলেন সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি। মাইনুদ্দিনের সঙ্গে রোকসানা রাতে হোটেলে ছিলেন-এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। তবে একজন নারীর পক্ষে গলা কেটে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা সহজ নয়। তাই রাতে আর কেউ সেখানে গিয়েছিল কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নগর পুলিশের বায়েজিদ জোনের সহকারী কমিশনার সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে হোটেলের একটি কক্ষে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মাইনুদ্দিনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

লেকসিটি হোটেলে আগেও বিভিন্ন সময়ে অপরাধমূলক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। অসামাজিক কর্মকান্ডের আখড়া হিসেবে পরিচিত এ হোটেলে কক্ষগুলো ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন সময় সেখানে অভিযানও চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, সাবেক স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্যের জেরে ক্রোধ বা প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে মাইনুদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কের জটিলতা কী তা জানতে রোকসানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকা-ের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে