শপথ নিলেন ইমরান খান

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল শনিবার শপথ নিয়েছেন সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। তার পুরো নাম ইমরান আহমেদ খান নিয়াজি। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আইন-ই-সদরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শপথগ্রহণ করেন তিনি। খবর ডন। সূচি অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার

কথা ছিল স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু কিছুটা বিলম্ব করে শুরু হয় ১০টায়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

মামনুন হোসাইন নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শপথবাক্য পাঠ করান। পাকিস্তানের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য দেখানোর অঙ্গীকার করেন ইমরান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সততা এবং নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য উজাড় করে দেবেন বলেও প্রতিজ্ঞা করেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখÐতা, জাতীয় সংহতি, সর্বোপরি দেশের উন্নতিসাধনে আত্মনিয়োগ করবেন বলেও শপথ নেন। উর্দু ভাষাতেই শপথ নেন ইমরান। অনুষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হয়েছে।

ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হলো। এর আগে ২০১৩ সালে প্রথম নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছ থেকে আরেক নির্বাচিত প্রতিনিধি ক্ষমতার পালাবদল হয়। এ ছাড়া দেশটির ৭১ বছরের ইতিহাসে কখনো সেনা. কখনো জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন মেয়াদে ক্ষমতার মসনদে বসেছেন।

এদিকে গতকাল শপথ নেয়ার সময় ইমরান খানকে বেশ প্রসন্ন মনে হয়েছে। ঠোঁটের কোণায় স্মিত হাসি লেগেই ছিল। গায়ে জড়িয়েছিলেন ঐতিহ্যবাহী শেরোয়ানি। শপথের পর ইমরান খান ও ফার্স্টলেডি বুশরা ইমরান অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। গত বছর বিয়ের পর এই প্রথম বুশরা ইমরান জনসম্মুখে হাজির হলেন।

ইমরানের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির তত্ত¡াবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নাসিরুল মুলক, জাতীয় সংসদের স্পিকার আসাদ কায়সার, সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াসহ রাষ্ট্রের সম্মানিত গুণীজনরা। এ ছাড়া ১৯৯২ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাকি সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ইমরান।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে ইমরান খান পাকিস্তানে রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) গঠন করেন। এর পর ধারাবাহিকভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। ২০১৩ সালে নির্বাচনে পরাজিত হন, কিন্তু নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে রাজপথে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক জনসমর্থন পান। চলতি বছরের ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তারই প্রতিফলন ঘটে। ইমরান নিজে ৫টি আসনে জয়ী হন, আর তার দল পিটিআই লাভ করে ১১৫টি আসন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে