পায়রা বন্দর এলাকায় ঘর তোলার হিড়িক

বেশি মূল্য পাওয়ার আশা

  মুজাহিদ প্রিন্স, পটুয়াখালী

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় ঘর তোলার হিড়িক পড়েছে। অধিক মূল্য পাওয়ার আশায় পায়রা পোর্টসংলগ্ন লালুয়া ও ধানখালী ইউনিয়নে শত শত পরিবার ঘরগুলো তুলছে। এতে এই উপজেলার সব কাঠের দোকানে কাঠ সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে কাঠমিস্ত্রি সংকট। মিস্ত্রিরাও সুযোগ বুঝে নিচ্ছেন অধিক মজুরি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পায়রা বন্দর ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকার জন্য সরকার তিনগুণ মূল্যে জমি অধিগ্রহণ করছে। সম্প্রতি আরও জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ায় আন্দোলন-সংগ্রাম করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। আন্দোলনে কোনো কাজ নাও হতে পারে বিবেচনায় নিয়েই তিন শতাধিক মানুষ নতুন করে তাদের ফসলি জমিতে ঘর তুলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা জানান, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় সরকার চলমান দামের চেয়ে তিনগুণ মূল্যে জমি অধিগ্রহণ করে। ফলে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও জমির মূল্যে বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে অধিগ্রহণকৃত জমির প্রাপ্ত মূল্যে কলাপাড়ার অন্য এলাকায় জমি ক্রয় করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত শত পরিবার উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে জমি ক্রয় করতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। ঘর আছে এমন জমি অধিগ্রহণ করা হলে মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি পাওয়া যাবে, এমন আশায় ফসলি জমিতে ঘর তোলার

হিড়িক পড়েছে। এ হিড়িকে একজন কাঠমিস্ত্রি প্রতিদিন ৬০০ টাকা মজুরির পরিবর্তে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা করে নিচ্ছেন। এ ছাড়া কাঠের মূল্যও বেড়ে হয়েছে কয়েকগুণ। ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে বেচাবিক্রি বেড়েছে লোহার দোকানসহ টিনের দোকানেও। তারাও এ সুযোগে অধিক মূল্যে বিক্রি করছেন টিন ও লোহা।

এ ব্যাপারে ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এক জমির মালিক জানান, তার মাত্র পাঁচ কড়া জমি ছিল। এতেই চাষাবাদ করে সংসারের খরচ চলত। সরকার তার প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করেছে। তবে সরকার কৃষকদের স্বার্থে ভূমির মূল্য তিনগুণ বাড়িয়ে দিলেও টাকা তুলতে বারবার পটুয়াখালী যাতায়াত, অফিসসহ বিভিন্ন প্রকার খরচ হয়ে যায়। ফলে যাও হাতে পাওয়া যায়, তা দিয়ে পুনরায় অন্য জায়গায় ঘর তোলা কিংবা চাষাবাদের জমি ক্রয় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, যাদের জমি কম, তাদের অনেককেই পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তারা প্রাপ্ত টাকায় না পারছে বাসযোগ্য ঘর তুলতে, না পারছে অন্য কোনো উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে। তবে সরকার তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে