একনেকে ১৪ প্রকল্প পাস

৩৮২৫ কোটি টাকায় কেনা হবে দেড় লাখ ইভিএম

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকায় দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। তবে এটি পর্যায়ক্রমে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই প্রকল্পের অর্থ দিয়ে তিন ধাপে এসব মেশিন কেনা হবে।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ইভিএম ছাড়া আরও ১৩টি প্রকল্পের (নতুন ও সংশোধিত) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সব প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮ হাজার ৮৪২ কোটি ৩৩ লাখ

সরকারি অর্থায়ন, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ২৫৭ কোটি ১ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে ইভিএমের ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার পুরোটাই সরকারি অর্থায়ন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

নির্বাচন আইনের সংস্কার, রাজনৈতিক দলের মতামতসহ সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই এক-তৃতীয়াংশ আসনে ইভিএম ব্যবহার করতে চায় নির্বাচন

কমিশন (ইসি)। এ জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় তারা। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে এসব ইভিএম ব্যবহার হবে। আগামী নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধন করবে ইসি। তাদের পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, ইসি সচিবালয়ের ৩ হাজার ১১০ জন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দেড় লাখ ইভিএম সিস্টেম এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনার জন্য প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২১ কোটি ৭ লাখ টাকা। এতে প্রতিইউনিট ইভিএমের দাম পড়বে প্রায় ২ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত, যদিও বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। তার আগে ডিসেম্বরে নতুন সরকার গঠনের জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে ভোটের বাকি আছে মাত্র কয়েক মাস।

পরিকল্পমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীও আজ নির্দেশনা দিয়েছেন এটা ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে ব্যবহারের জন্য। বলেছেনÑ আগে প্রশিক্ষণ নেন, শেখেন, শেখান; তারপর ব্যবস্থায় যান। তাই তিনটি পর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। যাতে কোনোভাবেই অপব্যবহার না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

এদিকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছেÑ ৭৫০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মীরসরাই প্রথম পর্যায় প্রকল্প। শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী স্থাপন প্রকল্প, ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ৫২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকার চট্টগ্রাম-রাঙামাটি জাতীয় মহাসড়কের (এন-১০৬) হাটহাজারী থেকে রাউজান পর্যন্ত সড়কাংশ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। জামালপুর-মাদারগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৬১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ভারতের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। গোপালগঞ্জ জেলায় বিএআরআইয়ের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৭ কোটি টাকা। ১১১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। গোপালগঞ্জ-খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা-পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হবে ৮২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বিসিএস ইকোনমিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ বেতার, শাহবাগ কমপ্লেক্স, আগারগাঁও, ঢাকায় স্থানান্তর, নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৮২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে