কয়েদিদের কর্মসংস্থান নাটোর জেলা কারাগার

  নাটোর প্রতিনিধি

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

কারাগারে অপরাধের সাজা ভোগ করার পর ছাড়া পেয়ে কয়েদিদের যেন কর্মহীন থাকতে না হয় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে নাটোর জেলা কারাগার। বাইরে গিয়ে তারা যেন আর কোনো অপরাধে জড়িয়ে না পড়েন সে জন্য বিভিন্ন কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের জন্য ৫০ শতাংশ মুনাফাও পাচ্ছেন তারা। ফলে কারাগার এখন তাদের কর্মসংস্থানেরও উৎস, স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ার।

নাটোর জেলা কারাগার সূত্র জানায়, গত এক বছর হলো নাটোর জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে চালু করা হয়েছে বন্দি প্রশিক্ষণ, সংশোধন ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। রাজশাহী কারাগার থেকে বাঁশের রকমারি পণ্য তৈরির কৌশল রপ্ত করেছিলেন যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত শরিফুল ইসলাম ও হারুনর রশীদ।

এই দুই হাজতিকে দিয়ে শুরু হয় কয়েদি ও হাজতিদের বাঁশের পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ। এর পর সেলাই ও কৃষিকাজের প্রশিক্ষণ। আর বর্তমানে নাটোর কারাগারে শতাধিক কয়েদি ও হাজতি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ ছাড়া গত এক বছরে দুই শতাধিক কয়েদি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

নাটোর জেলা কারাগারের কয়েদি ও হাজতিদের বসার মোড়া, কলমদানি, বাঁশের বেড ঝাড়ু, ছনের ঝাড়ু ও তৈরি পৈাশাক বিক্রি হচ্ছে কারা ফটকের গেটে স্থাপিত স্টলে। এ ছাড়া কারাগারে উৎপাদিত সবজি বিক্রি হচ্ছে বাজারে। ঢাকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলাসহ বিভিন্ন কারাগারে নাটোর কারাগারের উৎপাদিত লক্ষাধিক টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে।

কারাগারের অভ্যন্তরে আঙিনায় ফুল, ফল ও সবজির বাগান করা হয়েছে। মৌসুমি সবজি চাষের পাশাপাশি আম, লিচু, কাঁঠালগাছ থেকে বন্দিদের মৌসুমি ফলের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে। বাগান তৈরি ও গাছের পরিচর্যায় বন্দিদের ভূমিকাই প্রধান বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ ছাড়া যে কোনো সেলাই কাজই করতে পারছেন তারা। নাটোর জেলা কারাগারে কর্মরত ৮৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুই সেট করে ইউনিফর্ম তৈরি করে দিয়েছেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েদিরা। সমাজসেবা বিভাগ থেকে দেওয়া ১৪টি সেলাই ও একটি ওভারলুপ মেশিনে কাজ চলছে। বাইরের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কম খরচে কারাগারের সেলাই কেন্দ্র থেকে পোশাক তৈরি করে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

দ-াদেশ ভোগ করে সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন শহরের বড় হরিশপুর এলাকার সোহরাব কাজীর ছেলে আব্বাস কাজী। তিনি বলেন, কাজ করাতে কারাগারে সময় ভালো কেটেছে। শরীর ও মন ভালো ছিল। কারাগারে যাওয়ার পর প্রশিক্ষণ আমাকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।

নাটোর জেলা কারাগারের জেল সুপার আবদুল বারেক জানান, কয়েদি ও হাজতিদের মধ্যে ২-৪ জন পাওয়া যায় তারা বিভিন্ন কাজে পারদর্শী। তারাই মূলত প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে তারা চেষ্টা করছেন। কারাগারের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বন্দিদের নিয়মিত কাউন্সেলিংও করা হয় যেন তারা সুপথে চলেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে