sara

কাজের গতি নেই সরকারি দপ্তরে

শূন্যপদ ৩ লাখ সাড়ে ১০ হাজার

  ইউসুফ আরেফিন

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনপ্রশাসনমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের অধীনে ৩ লাখ ১০ হাজার ৫১১টি পদ শূন্য রয়েছে। বিপুলসংখ্যক পদ খালি থাকায় সরকারি দপ্তরগুলোয় কাজের গতি নেই। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের কাক্সিক্ষত সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া পদ খালি থাকায় শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হচ্ছে না।

তবে শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেও নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। এদিকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদকে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অধীন ৩ লাখ ১০ হাজার ৫১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থায় শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ৫৯৬টি। নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ৯ জুলাই সংসদে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সর্বাধিক শূন্যপদ রয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। এ মন্ত্রণালয়ে ৫৮ হাজার ৯৮৯টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪১ হাজার ৮৬৯টি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ১২ হাজার ৮৩৭টি। এ ছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৪ হাজার ২৮৩টি পদ খালি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারি অফিসগুলোয় শূন্যপদে লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং এর অধীনে সংস্থাগুলোর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নবম ও দশম গ্রেডের, অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শূন্যপদে জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ১৩-২০ গ্রেডের, অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থার নিয়োগবিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা সংস্থা জনবল নিয়োগ করে।

জনপ্রশাসনমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া তথ্য বলছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৩৪ হাজার ৯২৩টি পদ খালি রয়েছে। এ বিভাগ দ্রুত বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য। এসব পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে এ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৫ হাজার ৫২৫টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ১৩ হাজার ১৫৫টি পদ খালি রয়েছে। এগুলোও পূরণ করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-অধিদপ্তর। এসব নিয়োগ বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত নিয়োগ শেষ করার কাজ করছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে পাঁচ ধরনের কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এসব কোটার মধ্যে মেধাভিত্তিক (জেলা কোটাবহির্ভূত) ৪৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ এবং জেলার সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা রয়েছে। তবে প্রাধিকার কোটার অপূরণকৃত ১ শতাংশ কোটা প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করা হয়ে থাকে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শুধু অর্থ মন্ত্রণালয়ের চার বিভাগ ও সংস্থায় ৫৩ হাজারের বেশি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় ৪২ হাজার ২১২টি পদ খালি। রাজস্ব খাতের ৫৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (বিবিএস) ২ হাজার ২৩৪টি পদসহ বিভিন্ন সংস্থায় পদ শূন্য আছে ২ হাজার ৫২০টি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থায় ১ হাজার ২৫৭টি শূন্য পদ আছে। এ তিন মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব খাতের ৫৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ১৮৭টি পদের মধ্যে ৬১টি শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ৩০টি শূন্যপদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে।

এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (রাজউক) ৭৭৮টি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ১৬৩টি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ৩৪টি পদ শূন্য রয়েছে। তবে নিয়োগের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না।

বিপুলসংখ্যক পদ খালি থাকায় সরকারি দপ্তরগুলোয় কাজের গতি কমার পাশাপাশি শৃঙ্খলা নষ্ট হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের কোনো দপ্তরেই শূন্য পদ থাকা উচিত নয়। পদ শূন্য থাকলে প্রশাসনে কাজের গতি থাকে না। সরকারের উচিত, দ্রুত বিপুলসংখ্যক এসব শূন্যপদ পূরণ করা। অন্যথায় সরকারি দপ্তরগুলোয় কাজের গতি থাকবে না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহাম্মদকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে