উত্তাল সাগরে ২২ ট্রলারডুবি শতাধিক জেলে নিখোঁজ

  নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী ও পাথরঘাটা প্রতিনিধি

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় ২২টি মাছ ধরার ট্রালার ডুবে গেছে। এগুলো থেকে দুই শতাধিক জেলে ও মাঝিমাল্লাকে উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে পৃথক ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। সাগর থেকে ফিরে আসা জেলে-মাঝিমাল্লা, মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতি ও কোস্টগার্ড সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়। এ অবস্থা দেখে সাগর থেকে নিরাপদে আসার পথে ফেয়ারওয়ে বয়া, নারিকেলবাড়িয়া, দুবলাসহ একাধিক স্থানে অন্তত ২০টি মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। এগুলোতে থাকা ১১৭ জেলে উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮১ জন। ডুবে যাওয়া ট্রলারের মধ্যে জালাল মোল্লার মালিকানা এফবি মায়ের দোয়া, আহম্মদ মিস্ত্রির এফবি তাজেনুর, খলিল ফকিরের এফবি মীম-২, দুলাল মিয়ার এফবি মায়ের দোয়া, ছগির পাহলানের এফবি আরমান আলীর নাম জানা গেছে। এ ছাড়া সাগরে উত্তাল থাকায় রাতেই শতাধিক ট্রলার সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া, আলোরকোল, দুবলা খালে আশ্রয় নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া।

গভীর সমুদ্রে ডুবে যাওয়া ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারে বরগুনা জেলা প্রশাসন, পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনসহ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড তৎপরতা শুরু করেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে ডুবে যাওয়া ট্রলার ও জেলেদের উদ্ধারের জন্য বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা অভিযানেও নেমেছে।’ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট মাহমুদ আলী জানান, সুন্দরবনের আউটপোস্টে ক্যাম্পগুলোকে উদ্ধার অভিযানে নামতে বলা হয়েছে।

এদিকে আলীপুর-মহিপুরের মধ্যবর্তী শিববাড়িয়া পোতাশ্রয়ে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক হাজার মাছধরার ট্রলার। আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার মোল্লা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কিনারে ফিরতে শুরু করে মাছধরার ট্রলারগুলো। তবে এমভি খলিফা নামে একটি ট্রলার সুন্দরবনের কাছে ডুবোচরে আটকে ঢেউয়ের তোড়ে উল্টে ভেঙে গেছে। এতে ১৬ জেলেকে অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করে আলীপুরে নিয়ে আসে। এ ছাড়া এফবি আলমাস মোল্লা নামে ১৬ জেলেসহ একটি ট্রলারের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড কিংবা নৌবাহিনীর কোনো সদস্য জেলেদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি।

ঝড়ের কবল থেকে ফিরে আসা মৌডুবির জেলে জামাল হোসেন ও শহীদ জানান, গত তিনদিন ধরে সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছিল। তাই আবহাওয়া প্রথমে একটু খারাপ হলেও সবাই কিনারে ফিরতে দেরি করছিল। কিন্তু এক সময় সাগর বেশি উত্তাল হয়ে পড়ায় টিকতে না পেরে বাধ্য হয়ে তারা কিনারে এসেছেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে