sara

জনপ্রিয়তাই কাল হলো চেয়ারম্যান বিশ্বজিতের

  বরিশাল প্রতিনিধি

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:০৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু হত্যায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। স্থানীয় কারফা বাজারের পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে একটি বাড়িতে।

সমর্থকদের অভিযোগ, বিশ্বজিৎ জনপ্রিয় হওয়ায় এবং ভালো কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রী মহল তাকে হত্যা করেছে। এদিকে দায়িত্বে অবহেলা করায় ক্লোজড করা হয়েছে স্থানীয় ফাঁড়ির দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে। হত্যাকাণ্ডের জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয় ৫ জনকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুরের মধ্যে সিরাজ সিকদার, সাবেক ইউপি সদস্য তাইজুল ইসলাম পান্না, আইয়ুব আলী, হরষিত রায়সহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন বিষয় সামনে বেরিয়ে আসছে। সবই আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি। এ ছাড়া ইউনিয়নের কুড়ুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিজান ও এবি ইউসুফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গেল শুক্রবার রাত ৮টায় উজিরপুর ইউনিয়নের কারফা বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুখলাল হালদার বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া শুক্রবার রাত থেকেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী।

হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে স্থানীয় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. সাঈদকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন। কারফা বাজারের পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং প্রবাসী খোকন সরদারের তিনতলা বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করেন তারা।

খোকনের ভাই সোহাগ সরদার এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তাদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় স্থানীয়দের বাগ্বিতণ্ড হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বহনকারী একটি গাড়িও ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা।

স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল বিশ্বাস জানান, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় অনেকেই তার শত্রু বনে যায়। স্থানীয়দের কেউ কেউ অবশ্য সরাসরি আঙুল তুলেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল এবং সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসের পিএস আবু সাঈদের দিকে। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির জানান, এ বিষয়টিও তারা খতিয়ে দেখছেন।

এদিকে শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে নিহত চেয়ারম্যানের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে জল্লা ইউনিয়ন আইডিয়াল কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। সেখানে সহস্রাধিক মানুষ তার মরদেহ ঘিরে অবস্থান নেয়। চেয়ারম্যানকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উজিরপুরের ইচলাদীতে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ মরদেহ দেখতে এলে আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বিশ্বজিতের সমর্থকরা। তারা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, নিহত চেয়ারম্যান সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় এবং তার ভালো কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে