কী নিষ্ঠুরতা

নবজাতকের মাথা প্রসূতির পেটে ছিঁড়ে আসা অংশ ডাস্টবিনে

  দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিষ্ঠুর, হৃদয়বিদারক, মর্মান্তিক... কোনো বিশেষণই যেন এ ঘটনা প্রকাশ করার জন্য যথার্থ নয়। প্রসব করানোর সময় টেনেহিঁচড়ে নবজাতকের হাত-পাসহ দেহের অর্ধেকাংশ ছিঁড়ে ফেলেছেন দুই নার্স ও এক আয়া। মাথা রয়ে গেছে প্রসূতির পেটেই। রোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে পেটে সন্তানের মাথার অংশ রেখেই তড়িঘড়ি করে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে নবজাতকের ছেঁড়া হাত ও দেহ ফেলে দেওয়া হয় হাসপাতালের পরিত্যক্ত ডাস্টবিনে।

পরে হাসপাতালের চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করে গত রবিবার ওই প্রসূতির গর্ভ থেকে সন্তানের মাথার অংশ বের করে আনেন। প্রসূতির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

জানা গেছে, দেবিদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম প্রসবের জন্য গত শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নীলা পারভীনের তত্ত্বাবাবধানে হাসপাতালে ভর্তি হন।

ফাতেমার স্বামী সেলিম মিয়া ও স্বজনরা জানান, প্রসব বেদনা থাকলেও কোনো চিকিৎসক না থাকায় সন্তান প্রসবের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হাসপাতালের নার্স আছিয়া ও ঝরনা রোগীর স্বজনদের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের জন্য বাইরের দোকান থেকে ওষুধপত্র ক্রয় করান। পরে প্রসব বেদনায় প্রসূতি কাতর হয়ে পড়লেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নার্স আছিয়া, ঝরনা ও ডলি নামের এক আয়া মিলে ফাতেমার গর্ভের সন্তানের পা এবং হাত ধরে টানাটানি শুরু করেন। তাদের টানহ্যাঁচড়ায় নবজাতকের হাত-পাসহ অর্ধেকাংশ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে। আর মাথা থেকে যায় প্রসূতির পেটে। এ অবস্থায় প্রসূতির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে গভীর রাতে প্রসূতিকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে নবজাতকের ছেঁড়া হাত ও দেহ হাসপাতালের পরিত্যক্ত ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়। সকালে ওই সরকারি হাসপাতালের পেছনে হাত পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। এর পরই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহম্মেদ কবীর জানান, দায়িত্বশীল মেডিক্যাল অফিসার আহসানুল হক মিলু ও ডা. নীলা পারভীনকে না জানিয়ে রাতে সিনিয়র স্টাফ নার্স আছিয়া, ঝরনা ও এক আয়া মিলে প্রসূতির গর্ভের সন্তান ডেলিভারির চেষ্টা করে। এ সময় সন্তানের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে মাথার অংশ পেটে রেখেই প্রসূতিকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনার তদন্তের জন্য দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. তামান্না সোলেমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব একই হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মঞ্জুর রহমান ও সদস্য মেডিক্যাল অফিসার ডা. আহসানুল হক মিলু। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান জানান, দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে আমার কাছে যে তথ্য এসেছে তাতে আমি খুবই মর্মাহত। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে