নারায়ণগঞ্জ ও উত্তরায় রাস্তার পাশে ৭ লাশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক ও আবু সাউদ মাসুদ, নারায়ণগঞ্জ

২২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক ভোরেই রাস্তার ধারে পড়ে আছে সাতজনের লাশ। কারো শরীরে গুলি, কারো আঘাতের চিহ্ন। মুখ থেঁতলানো। গতকাল রবিবার ভোরে খবর পেয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। সবগুলোই হত্যাকণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চার যুবক ও ভুলতায় একজনের লাশের গায়ে গুলি ও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এদের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে তুরাগ নদের তীরে কাশবন থেকে উদ্ধার করা দুজনের লাশে পচন ধরেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, গতকাল রবিবার ভোরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে রাস্তার পাশে চার যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের প্রত্যেকের মুখমণ্ডলে মারাত্মক আঘাতের ক্ষতচিহ্ন এবং মাথার কিছু অংশ থেঁতলানো অবস্থায় ছিল। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ হক জানান, প্রতিটি লাশ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর। ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোথায় থেকে মেরে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। লাশের পাশে দুটি দেশি পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো চ ১৩-০০৫০১) পড়ে ছিল। আলামত হিসেবে এগুলো জব্দ করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, বিকাল তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে গিয়ে রেশমা আক্তার নামে এক নারী তার স্বামী নিহত লুৎফর রহমান মোল্লার (৩৬) লাশ শনাক্ত করেন। লুৎফরের বাবার নাম মনসুর মোল্লা। ঢাকার রামপুরায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন লুৎফর রহমান মোল্লা। পেশায় বাসচালক ছিলেন। ওসি জানান, নিহতরা ডাকাত কিনা তা নিয়েও তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

হাসপাতালে ছুটে আসা রেশমা জানান, তার স্বামী বাসচালক। গাড়ি চালানোর উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকাল পাঁচটার দিকে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেন। রাত একটার দিকে তার সঙ্গে স্বামীর শেষবারের মতো কথা হয়। এরপর থেকে লুৎফরের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। রবিবার সকালে টেলিভিশনে আড়াইহাজারে চারজনের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে ছুটে আসেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে রেশমা বলেন, আমার স্বামী নির্দোষ। তাকে কারা মেরে ফেলেছেগো। কান্নাকাটি করছেন নিহতের বড় ভাই ইউনুছ মোল্লাসহ নিহতের অন্য স্বজনরাও।

নিহত লুৎফর মোল্লার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে রিশাদ অষ্টম শ্রেণি ও মেয়ে লিজা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান তারা। ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি শত শত উৎসুক মানুষ লাশ দেখতে ভিড় জমিয়েছে। তবে নিহতের কেউ আড়াইহাজারের অধিবাসী নয়। চারজনের মধ্যে একজন লুঙ্গি পরিহিত। বাকি তিনজনের পরনে ছিল প্যান্ট ও শার্ট।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমরা ৯৯৯ জরুরি নম্বরে লাশ পড়ে থাকার খবর পাই। এরপর বিষয়টি থানাপুলিশকে অবহিত করি। থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে সুরতহালের পরে মর্গে পাঠায়। কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।

এদিকে গতকাল ভোরে রূপগঞ্জ এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের কুশাব জামে মসজিদের পাশে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৪০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকেও হত্যার পর মুখের একপাশ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে।

ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের যে কোনো সময় ডাকাতি করা মালামালের ভাগাভাগি নিয়ে একপক্ষ ওই যুবককে হত্যা করে গাড়ি থেকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছে।

কুশাব জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুুল মতিন জানান, ফজরের নামাজের আগেই সড়কে পুলিশের একাধিক গাড়ি ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। নামাজ শেষ হলে কিছু পোশাকধারী পুলিশ সড়কটি বন্ধ করে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে লাশটি পরে থাকতে দেখেন তারা। সকাল ৮টার দিকে অপর একদল পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এদিকে, রাজধানীর তুরাগ থানার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, কয়েক দিন আগে তাদের হত্যা করে কাশবনে ফেলে রাখা হয়েছে। লাশে পচন ধরেছে।

তুরাগ থানার ওসি নুরুল মুক্তাকিন বলেন, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে রাজউকের উত্তরা আবাসিক এলাকার ১৬ নম্বর সেক্টরের ফাঁকা জায়গা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রবিবার ভোরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে