নিমিষেই শেষ একটি পরিবার

জয়পুরহাটে ঘুমের মধ্যে আগুনে মৃত্যু ৮ জনের

  জয়পুরহাট প্রতিনিধি

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৪৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

জয়পুরহাট শহরের শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজের কাছে আরামনগর মহল্লা। প্রতিদিনের মতোই ঘরে চার সন্তান, মা-বাবাকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মুরগি ব্যবসায়ী আবদুল মোমিন ও তার স্ত্রী পরীনা বেগম; কিন্তু কে জানত এটাই হবে তাদের শেষ ঘুম। গত বুধবার রাতে বৈদ্যুতিক গোলোযোগে সৃষ্ট আগুনে পুড়ে মারা গেছে এই পরিবারে ৮ জন। নিহতরা হলেনÑ

দুলাল হোসেন (৭১), তার স্ত্রী মোমেনা বেগম (৬৫), তাদের ছেলে আবদুল মোমিন (৩৭), পুত্রবধূ পরীনা বেগম (৩০), মমিনের বড় মেয়ে জেএসসি পরীক্ষার্থী বৃষ্টি (১৪), দুই যমজ মেয়ে হাসি ও খুশি (১২), ছোট ছেলে আব্দুর নূর (৬)।

জয়পুরহাট ফায়ার স্টেশনের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে দুলাল হোসেনের আধাপাকা বাড়িতে ওই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুলালের স্ত্রী মোমেনা বেগম, তাদের ছেলে আবদুল মোমিন ও তার মেয়ে বৃষ্টির পোড়া লাশ উদ্ধার করে। এ ছাড়া মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় দুলাল হোসেন, তার পুত্রবধূ পরীনা বেগম, যমজ দুই নাতনি হাসি ও খুশি এবং ছোট্ট নূরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঠানো হয় জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে। সেখান থেকে ওই ৫ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সবাই মারা যান। জয়পুরহাট পুলিশ সুপার রশিদুল হাসান জানান, রাতে মোমেনা বেগম বাসার রাইস কুকারে রান্না করার সময় বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তারা জানতে পেরেছেন।

রোকেয়া বেগম নামে নিহতদের এক প্রতিবেশী জানান, রাতে হঠাৎ করেই তারা বৃদ্ধ দুলাল হোসেনের আগুন আগুন চিৎকার শোনেন। এরপর আর কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া না গেলেও আমরা বাইরে গিয়ে দেখি তাদের বাসায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এ সময় স্থানীয় যুবকরা আগুন নেভানোর অনেক চেষ্টা করেও পারেনি। এর পরও অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে জানালা ভেঙে ছোট্ট আব্দুর নূর এবং পরে একজন একজন করে আরও ৪ জনকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর পর আহতদের অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই ৫ জনকে ঢাকা পাঠানো হয়।

এদিকে গতকাল দুপুর সোয়া ২টায় এবং বিকালে জয়পুরহাট শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে সরকারি গোরস্তানে নিহতদের দাফন করা হয়েছে। জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, স্থানীয় এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান, বিজিবি ৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ মো. আনিসুল হক, বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক আবদুর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান জানান, অগ্নিদগ্ধ হয়ে একই পরিবারের ৮ জনের মৃত্যুর বিষয় কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়কে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারের সদস্যদের মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারটির কেউ বেঁচে না থাকায় এই টাকা কাকে দেওয়া হবে তা বুঝতে পারছি না। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া বিনতে তাবিবকে প্রধান করে জেলা প্রশাসনের পক্ষেও একটি ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে কমিটি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষও উপ-সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দীনকে প্রধান করে আরেকটি তদন্ত কমিটি করেছে। যারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে