শতাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে সৌদি

প্রকাশ | ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১২

আমাদের সময় ডেস্ক
পুরোনো ছবি

ভুয়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে আটকা পড়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশটি। এসব আটকা পড়া রোহিঙ্গার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশুও রয়েছে।

এ ক্ষেত্রেও মূলত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের এসব রোহিঙ্গার দায়ভার এসে পড়ছে বাংলাদেশের কাঁধে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বাংলাদেশে ফেরতও পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক খবরে জানিয়েছে, ভুয়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হওয়া রোহিঙ্গারা সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে সৌদি সরকার তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে বন্দি রোহিঙ্গারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তাদের সামনে আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না।

মিডল ইস্ট আইয়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়, কোনো অভিযোগ ছাড়াই সৌদি আরবে বেশ কয়েক বছর ধরে সুমাইসি বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে কয়েকশ রোহিঙ্গাকে, যাদের কাছে মিয়ানমার সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্রও আছে। এসব রোহিঙ্গার বেশিরভাগ ২০১১ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে স্থানীয়দের নিপীড়ন এড়াতে পালিয়ে ভুয়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করে অবৈধভাবে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিল। এরই মধ্যে এসব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি সরকার। তাদের দাবি, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের সৌদি আরব সফরের পরই এসব রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সৌদি সরকারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুমাইসি বন্দিশিবিরে বর্তমানে প্রায় ৩২ হাজার কাগজপত্রহীন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। অনেককেই গ্রেপ্তারের পরই নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। রোহিঙ্গারাও আশঙ্কা করছে, তাদের বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির, নয়তো মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হতে পারে। আব্দুল গোলাম নামে এক বন্দি রোহিঙ্গা বলেন, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে আমরা কী করব? সে ক্ষেত্রে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমাদের আর পথ খোলা থাকবে না।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে নানাভাবে পালিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তানের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে রোহিঙ্গারা সৌদি আরবে যাচ্ছে। তবে সৌদি আরবে প্রবেশের পরই বিদেশি পাসপোর্টধারী সবাইকে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আঙুলের ছাপ দিতে হয়। এতে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ধরা পড়ছে।

আটক রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, তাদের ফেরত পাঠাতে শারীরিক নির্যাতন করে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে সৌদি অভিবাসন পুলিশ বাধ্য করেছে। ওই নথিতে যেখানে বলা আছে, তারা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা বলেন, ফরমগুলো আগে থেকেই পূরণ করে রেখেছে বাংলাদেশি দূতাবাস ও সৌদি অভিবাসন পুলিশ।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি আরবের এই পদক্ষেপের কড় সমালোচনা করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক অ্যাডাম কুগল বলেন, সৌদি আরবে আটক রোহিঙ্গারা ফাঁদে আটক পড়ে গেছে। সৌদি আরবের উচিত ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ বন্ধ করে তাদের আশ্রয় দেওয়া। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র আমিনা জুবারি বলেন, তারা সৌদি আরবের এই পদক্ষেপের কথা জানেন। তারা এই বিষয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তবে সৌদি সরকার দাবি করেছে, তারা কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠায়নি। যারা অন্য দেশের ভুয়া পাসপোর্ট দিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে, তাদেরই ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।