বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ দেশের অর্থনীতিতে ৫ চ্যালেঞ্জ দেখছে

  আবু আলী

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৪২ | প্রিন্ট সংস্করণ

আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে পাঁচটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি আইএমএফের একটি উচ্চ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। এ সময় তারা আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ চালচিত্রে (বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট) বিশ্বব্যাংকও একই কথা জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের আর্থিক খাত স্থিতিশীল রাখতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে পাঁচ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলোÑ দেশের ব্যাংকিং খাতে লাগামহীন খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা, বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটিয়ে তোলা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, বৈদেশিক শ্রমবজার ও দেশীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা।

আইএমএফ বলছে, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সংকটে পড়া ব্যাংকিং খাতের রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ এ খাতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই খেলাপি ঋণের পরিমাণ দ্রুত কমিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে জাতীয় বাজেট থেকে অর্থ দেওয়াটাও অর্থনীতির জন্য শুভ নয়। ফলে খেলাপি ঋণ আদায় এবং ঋণ অবলোপন কমিয়ে আনার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে আইএমএফ। ফলে মেগা প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শেষ করাও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছে তারা। পাশাপাশি এসব প্রকল্পের কাজ যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে দিকেও পরবর্তী বাজেটে নজর রাখতে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নানা ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করছে। ফলে চলতি অর্থবছরও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমার বিষয়টির উল্লেখ করে, এ জন্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নতুন বাজার অনুসন্ধানেরও পরামর্শ রয়েছে আইএমএফের কাছ থেকে। এ ছাড়া রপ্তানি আয় বাড়ানোর জন্য পন্যের নতুন বাজারও অনুসন্ধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও এর প্রভাবমুক্ত নয়। ফলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় হলে অন্য সব ধরনের জিনিসপত্রের দামও বাড়তে পারে, যা মূল্যস্ফীতির চাপকে উস্কে দিতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব আমাদের ওপর পড়বে। ফলে দেশের ভেতরেও বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়বে। আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করছি।

এদিকে স্থানীয় পরিসংখ্যান ও উপাত্তের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮ শতাংশ। এতে দেশে মূলধন ঘাটতি দেখা দেবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্ববাংকের মতে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ যে কোনো উপায়ে কমিয়ে আনতে হবে। বিশাল পরিমাণ এ খেলাপি ঋণের কারণে আগামী জাতীয় বাজেটে চাপ আসবে। তাই মূলধন ঘাটতি মোকাবেলায় ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানো ও রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রফতানি আয় এবং ব্যক্তি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধাগুলো দূর করতে হবে। সরকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। তবে নানা কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। অবশ্য সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে