sara

মেয়র আইভীর বিএনপি জামায়াত কানেকশন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৩০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরোনো ছবি
জামায়াতে ইসলামীর মজলিশে শূরার সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমদকে রিমান্ডে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। নাশকতার তথ্য জানতে গিয়ে তার মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের গোপন আঁতাতের তথ্য।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাত ধরে দলটিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল আইভীর। রিমান্ডে দেওয়া এসব তথ্য অডিও আকারে ছড়িয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জে। হঠাৎ করে আইভীর এমন ভোল পাল্টানোয় বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেই তোলপাড় চলছে।

গ্রেপ্তারের পর মাঈনুদ্দিন আহমদকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মাঈনুদ্দিন আহমদ পুলিশকে বলেছেন, মেয়র আইভীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের মাধ্যমেই এ সম্পর্ক তৈরি হয়। এ কারণে বিএনপি জোটের হয়ে জামায়াত গত মেয়র নির্বাচনে আইভীকে সহায়তা করে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে আইভীর ওয়াদা ছিল নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করবেন। আইভীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার বোঝাপড়াটা এ রকমই ছিল। সেই হিসেবেই মেয়র নির্বাচনের আগে তৈমূরকে প্রত্যাহার করা হয়। রাতের মধ্যেই তৈমূরকে বসিয়ে দেওয়া হলো।

জামায়াত নেতা মাঈনুদ্দিনের এসব তথ্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, মাঈনুদ্দিন এমন কিছু তথ্য ফাঁস করেছেন, যা আগে কেউ শোনেনি। এসব তথ্য জানার পর আমরাও অবাক হয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই এক সময় তার মুখ থেকে নানা গোপন তথ্য বেরিয়ে আসতে থাকে।

চুনকা পরিবারের সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগ রয়েছে দাবি করে মাঈনুদ্দিন পুলিশকে বলেন, আমরা আলী আহমদ চুনকা (আইভীর বাবা) সাহেবের সঙ্গেই ছিলাম। আইভীর বাবার সময় আমরা রাজনীতি করেছি। আমরা ওনার সঙ্গে আলোচনা করে ওনারে সঙ্গে নিয়ে সাঈদী সাহেবের মিটিং করেছি এখানে। আমি চুনকা সাহেবের কাছ থেকে আদর্শ স্কুলের জন্য জায়গা নিয়ে এনেছি।

আদর্শ স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মাঈনুদ্দিন বলেন, স্কুলটা প্রতিষ্ঠা করেছেন মুজাহিদ সাহেব (আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ)। উনি এখানে ছিলেন। উনি প্রতিষ্ঠাতাদের একজন এবং প্রিন্সিপাল ছিলেন। কিছু জায়গা কিনেছি আমরা, কিছু জায়গা ওনার (চুনকা) কাছ থেকে দলিল করে নিয়েছি। ওই সময়টা ছিল আওয়ামী লীগ হোক আর যে-ই হোক, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক কো-অপারেশন ছিল। কিন্তু এখন সেটি আর নেই। আমরা আমলাপাড়া মসজিদে চুনকা সাহেবকে নিয়ে বসে আলোচনা করে সাঈদী সাহেবের মাহফিল করেছি সেই ঈদগাহে।

অডিও রেকর্ডে জামায়াতের সঙ্গে আইভীর যোগাযোগ প্রশ্নে জামায়াত নেতা মাঈনুদ্দিন বলেন, আইভীর বাবার সঙ্গে আমারও সম্পর্ক ছিল। মুজাহিদ সাহেবের ওয়াইফ আর আইভী ক্লাসমেট ছিল। মুজাহিদ সাহেব যখন জেলে, তখন ওনার ছেলেদের জন্মনিবন্ধনও এখানেই হয়েছে। অনেক ঘোরাঘুরি করেও যখন পাচ্ছিল না, তখন মুজাহিদের ওয়াইফ আইভীকে বলার পরই আধঘণ্টার মধ্যে এ জন্মনিবন্ধন হয়ে গেল।

এ মুহূর্তে আইভীর সঙ্গে আপনাদের (জামায়াত) যোগাযোগ কী অবস্থায় রয়েছে, এ প্রসঙ্গে মাঈনুদ্দিন বলেন, সম্পর্ক আছে। তবে এখন রিলেশনটা ওপেন হলে সমস্যা। আমরাও চাই না তাকে (আইভী) বিব্রত করতে। এ জন্য প্রকাশ্যে তাকে এড়িয়ে চলি। আমিও চলি, সেও চলে। তবে আইভীর মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ আছে। আমাদের যে কোনো কাজে অনুরোধ করলে ডাইরেক্ট, ইনডাইরেক্ট সে বসে সহজে করে দিয়েছে। অনেক কাজ করে দিয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মুজাহিদ ও আইভীর বাবা চুনকার মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে মাঈনুদ্দিন বলেন, ১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে চুনকা সাহেব পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আগে তো এখানে (নারায়ণগঞ্জ) কমিউনিটি সেন্টার ছিল না। চুনকা পাঠাগারে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম হতো। এগুলোর আয়োজন চুনকা সাহেব করতেন। মুজাহিদ সাহেবকে প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি সবগুলোয় রাখতেন। তখন পৌরসভার সেমিনারগুলো পাঠাগারের উদ্যোগে হতো। উনিই পাঠাগারের চেয়ারম্যান ছিলেন। উনিই উদ্যোক্তা, সব। উনি সভাপতি হতেন আর মুজাহিদ সাহেব প্রধান আলোচক হতেন।

২০১১ সালের মেয়র নির্বাচনের সময় আইভীর জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে মাঈনুদ্দিন বলেন, ওই সময় সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও একটা যোগাযোগ ছিল। কারণ আইভীর তো একটা অবস্থান আছে। তাকে আওয়ামী লীগই করতে হবে। আওয়ামী লীগ না করলে তার ওয়েট থাকবে না। তার সঙ্গে যারা আছে তারাও তাকে আওয়ামী লীগের বাইরে যেতে দেবে না। আওয়ামী লীগ করে ব্যাকওয়ার্ড পজিশনে পড়ে এমন কাজ সে করবে না আর আমরাও চাই না যে আইভী তার ইমেজটাকে নষ্ট করুক। এতে কোনো লাভ নেই। ও (আইভী) আওয়ামী লীগেই থাকুক।

মাঈনুদ্দিন বলেন, ও (আইভী) আওয়ামী লীগে থাকলে শামীম ওসমানদের সঙ্গে একটা দূরত্ব থাকে। এটা বিএনপি-জামায়াত যাই করি না কেন, আমাদের জন্য সুবিধা। ওকে আওয়ামী লীগে রাখতে পারলেই ভালো। কারণ ওখানে থেকেই শামীমের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। আওয়ামী লীগে থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার লোক কজন পাওয়া যায়? যে কাজ বিএনপির লোকও করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বিএনপির কারো সাহস নেই। ও যে পারছে, এটার জন্য তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়। সে শামীম ওসমান বা সেলিম ওসমান কাউকে কোনো পাত্তা দেয় না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে