sara

সিলেট বিএনপির হাল ধরবেন কে

নেতাদের কেউ বিশ্রামে কেউ কারাগারে বাকিরা আত্মগোপনে

  সজল ছত্রী ও নুরুল হক শিপু, সিলেট

১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ১২:৩৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রকট হচ্ছে সিলেটে বিএনপির নেতৃত্বের সংকট। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যু ও সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই হেভিওয়েট প্রার্থীর অভাবে পড়ে দলটি। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বিএনপি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর এই সংকট আরও বেড়েছে।

এ অবস্থায় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী ও নেতা নিয়ে তাই বেকায়দায় দলটি। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন জেলা ও মহানগর নেতাদের অনেকে। বাকিরা পলাতক, প্রবাসে, অসুস্থ বা নিষ্ক্রিয়। সিনিয়র নেতাদের কাছে না পাওয়ায় বিভ্রান্ত সাধারণ কর্মীরা, ছন্দ হারিয়েছে মাঠের রাজনীতি। তবে দায়িত্বশীল বা ভারপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, মূলত মামলার কারণেই অনেকে মাঠে নেই। তবে বিএনপি নির্বাচনী মাঠে নামার পরই নেতৃত্বের সংকট কেটে যাবে।

শীর্ষ নেতারা কে কোথায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দলীয় কাজে রয়েছেন ঢাকায়। তিনি সপ্তাহখানেক আগে কারাগার থেকে মুক্তি পান। কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সর্বশেষ ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এর পর থেকে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি। গত ২৫ দিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম। তবে তিনি ঢাকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল জেলে, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ হোসেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামাল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আল মামুন খান, ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গয়াছ মিয়া, বিশ্বনাথের ভাইস চেয়ারম্যান নুর উদ্দিন, দেওকলস ইউপি চেয়ারম্যান তাহিদ মিয়া, অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল ইসলাম রুহেল, গোলাপগঞ্জ উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বলসহ জেলা বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা এখন কারাগারে।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন অসুস্থতার কারণে দলীয় কর্মকা- থেকে দূরে রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম রয়েছেন যুক্তরাজ্যে। গত সিটি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়। মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন বাচ্চু, সদস্য মইন উদ্দিনসহ অনেক শীর্ষ নেতা রয়েছেন কারাগারে। আবার অনেকেই রয়েছেন আত্মগোপনে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক বলেন, বিএনপি ছোট কোনো দল নয়। দলে প্রতিদিন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী, যারা কারাগারে আছেন তারা সরকারের অন্যায়, আবিচার আর গায়েবি মামলার শিকার। তবে আমরা আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করার কাজ আগেই সেরে ফেলেছি। সিটি নির্বাচনের সময় আমরা প্রচার চালিয়েছি। মানুষ বিএনপিকে কতটা ভালোবাসে- এর প্রমাণ সিসিক নির্বাচনে তারা দিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আমাদের সময়কে বলেন, সারাদেশের মতো সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরাও সরকারের দমন-পীড়নের শিকার। আমাদের এমন কোনো নেতা নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা নেই। গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা অব্যাহত আছে। পুলিশ বাসাবাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানি করছেÑ অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল। এই দলে কখনই ছন্দ পতন ঘটবে না। আমাদের শীর্ষনেতারা কারাগারে থাকায় দলীয় কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে, কিন্তু আমরা মামলার বোঝা ঘাড়ে নিয়েও মাঠে আছি।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, একের পর এক মামলা, গণগ্রেপ্তারের পরও সিলেটে বিএনপি অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আমাদের শীর্ষ নেতারা কারাগারে থাকলেও আমরা কাজ করছি।

জেলা বিএনপির আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ খান জামাল বলেন, সরকারের দমন-পীড়নকে প্রতিহত করতে গিয়ে নেতারা নির্যাতিত হচ্ছেন, কারাগারে যাচ্ছেন, একের পর এক মামলার আসামি হচ্ছেন, কিন্তু দলের গতি থামেনি। দল চলছে তার নিজস্ব গতিতে। আন্দোলন চলছে, চলবে। সময়ই বলে দেবে- শেষ পর্যন্ত কে কে প্রার্থী হচ্ছেন সিলেটে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে