sara

আমাদের সময়কে হিরো আলম

আমার জীবনে ব্যর্থতা নেই, সফল হবো রাজনীতিতেও

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১২:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার ডিশ ব্যবসায়ী থেকে ইউটিউবে বিচিত্র অভিনয় ও নাচগানের বিনিময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। ডিশ ব্যবসার কারণে একসময় ‘ডিশ আলম’ নামে পরিচিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি দেশজোড়া পরিচিতি পান ‘হিরো আলম’ নামে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থিতা চেয়ে মনোনয়ন ফরম (বগুড়া-৪ আসন) জমা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল আমাদের সময় কার্যালয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিরো আলম তুলে ধরেন, কীভাবে তিনি সাধারণ একজন ডিশ ব্যবসায়ী থেকে উঠে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। বিদ্রুপ -সমালোচনা জয় করে স্বপ্ন আর সম্ভাবনার পথে হাঁটতে গিয়ে প্রতিমুহূর্তে মুখোমুখি হওয়া নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও বলেছেন তিনি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জয়লাভে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাবনার কথাও বলেন এই হিরো।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই আশাবাদ ব্যক্ত করে হিরো আলম বলেন, এর আগে আমি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করেছিলাম। এবার সংসদ নির্বাচন করছি। আমি স্বপ্ন দেখি, অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখি। মানুষজন চাইলে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার ইচ্ছা আছে। আমার জীবনে ব্যর্থতা বলতে কোনো শব্দ নেই। তাই রাজনীতিতেও সফল হব বলে আশা রাখি।

হিরো আলম বলেন, আমি কোনো দলের ব্যানারে নয়, সবসময় স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেছি। এ জন্য জয়লাভ করতে পারিনি। কিন্তু হাল ছেড়ে দিইনি। তাই এবার সাধারণ মানুষের কল্যাণে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছি। আমি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভক্ত। তার শাসনামলে দেশে উন্নয়ন হতো; শান্তিশৃঙ্খলা বিরাজ করত।

জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ। তাই মনোনয়ন পাওয়া অনেক কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। শুভাকাক্সক্ষীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে মনোনয়নের বিষয়ে হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আমি আশাবাদী।

হিরো আলম জানান, বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু ওই আসন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করেন। তার সঙ্গে নির্বাচন করার মতো যোগ্যতা এখনো অর্জন করতে পারেননি বলে মনে করেন হিরো আলম। বলেন, খালেদা জিয়ার সম্মানে ওই আসন থেকে নির্বাচন করছি না।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বগুড়া-৪ আসনে যারা প্রার্থী, আমি তাদের চেয়ে বেশি যোগ্য। এ আসনের নেতারা এলাকার কোনো উন্নয়ন করেননি। সাধারণ মানুষ তাই আমাকে ভোট দেবে। আমি প্রথমে ছোট ছোট উন্নয়ন কাজগুলো করব। প্রত্যেকের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের সমস্যা-অভিযোগ শুনব। এর পর সমাধান করব।

হিরো আলম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে নির্বাচন করব কিনা, তা জানতে চেয়ে অনেকেই যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার। তাই তাদের সঙ্গে যুক্ত হইনি। তবে পরবর্তী সময়ে এরশাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন তুলেছি।

নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার জন্য আর্থিক সংস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, বগুড়ায় প্রায় এক হাজার ডিশ লাইন রয়েছে আমার। এ ছাড়া মিউজিক ভিডিও ও সিনেমা করি। এ থেকেও কিছু টাকা আয় হয়। এসব দিয়েই নির্বাচনী প্রচারের ব্যয় নির্বাহ করতে পারব।

হিরো আলম চ্যালেঞ্জের সঙ্গে বলেন, আমার বিরুদ্ধে বাজে কোনো রেকর্ড নেই। কোনো মডেল বা মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগও তুলতে পারবে না কেউ। সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি। এ পর্যন্ত ৭ শতাধিক মিউজিক ভিডিও করেছি। শর্টফিল্ম, নাটক ও মুভি করেছি। ৩ শতাধিক নায়িকা মডেল হিসেবে কাজ করেছে আমার সঙ্গে। কেউ কখনো কোনো অভিযোগ তোলেনি। সাধারণ মানুষও আমাকে পছন্দ করে, ভালোবাসে। তাই আশা করি জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

হিরো আলম বলেন, আমাকে নিয়ে যারা বিদ্রুপ করেন, তারা আমার উঠে আসার গল্প জানেন না। সামান্য ডিশ ব্যবসায়ী থেকে দেশে-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করা চাট্টিখানি কথা নয়। এ জন্য আমাকে বছরের পর বছর সাধনা করতে হয়েছে। স্বপ্নের বাস্তবায়নে সে অনুযায়ী কাজ করতে হয়েছে। মানুষের ভালোবাসাতেই আমার আজকের অবস্থান। আমার বাবার টাকা ছিল না, ভালো স্কুলে পড়তে পারিনি। তাই ভালোভাবে, সঠিক উচ্চারণে কথা বলতে পারি না। আমাকে নিয়ে যারা হাসাহাসি করেন, তারা জানেন না, অভাব কী? যদি জানতেন, তবে আর হাসাহাসি, বিদ্রুপ করতেন না। তিনি বলেন, আমার চেহারা খারাপ। এ নিয়ে যারা হাসাহাসি করেন, ট্রল করেন, তাদেরও আমি ভালোবাসি। কারণ সবার আলোচনা-সমালোচনায়ই আজ আমি এ অবস্থানে।

সংস্কৃতিজগৎ থেকে রাজনীতির মাঠে নাম লেখানো স্বপ্নবাজ এই তরুণ বলেন, তরুণরা অল্পতেই ভেঙে পড়েন, ঝিমিয়ে পড়েন। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবার বিদ্রুপকে অগ্রাহ্য করেই কাজে নামতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে। ব্যর্থ হলেও হাল না ছাড়া যাবে না; তবেই আসবে সফলতা, আসতেই হবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে