sara

খালেদা জিয়ার জীবনপ্রবাহ নিয়ে গ্রন্থ

‘হার লাইফ, হার স্টোরি’

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৪৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে লেখা ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়। অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির ওপর আলোচনা করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এম আনোয়ার হাশিম, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, কলামিস্ট ইফতেদার আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়লা এন ইসলাম, অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

আশির দশকে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর একেবারে গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। দল হিসেবে বিএনপির জনভিত্তি তৈরি হয় তার হাত ধরেই। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। উপাধি পান আপসহীন নেত্রীর। এর পর বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বর্তমানে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়ে চলছেন খালেদা জিয়া। দুর্নীতির মামলায় দ- নিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি তিনি। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন।

গ্রন্থের লেখক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়া জনমানুষের রাজনীতিবিদ বলেই এ বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে হার লাইফ, হার স্টোরি। খালেদা জিয়া যে বয়সে বিধবা হয়েছেন, এর পর বাকি জীবন দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিবেদন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে বাতিঘর হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির সত্যিকার একজন বংশীবাদক। বইটি পড়লে পাঠকরা বুঝবেন তার মোহিনী নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রামের একমন্যতা। নিউজ এজ

পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, খালেদা জিয়ার দুটো বিষয় প্রশংসার দাবি রাখে। তাকে ভারত অপছন্দ করে। তার পরও তার দলের বহু লোক গোপনে ও প্রকাশ্যে ভারতের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কোনো একটা মীমাংসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি, সেটি জাতীয়তাবাদী শক্তির ভুল রাজনীতি। প্রশ্ন হচ্ছে, এত কিছুর পরও ভারত তাকে যে বিশ্বাস করে না, এটিই খালেদা জিয়ার শক্তি। তার দেশপ্রেমিকের পরিচয়।

সাংবাদিক নুরুল কবির বলেন, দ্বিতীয় প্রশ্নটা হচ্ছে, খালেদা জিয়া বাহুবলে রাজা নন, আমি এটা বিশ্বাস করি না। বাহুবলে রাজা হয়েছিলেন এরশাদ। আমার ধারণা, খালেদা জিয়া জনপ্রিয়তায় বলীয়ান। তিনি তার যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল বলেন, সহানুভূতি দিয়ে বেগম জিয়ার উত্থান, তবে রাজনীতিতে অধিকার প্রতিষ্ঠায় এরশাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ‘আনপ্যারালাল’ ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন, যা শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এখনো ধরে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, খালেদা জিয়া একমাত্র নেত্রী, যিনি দেশবিরোধী কোনো কাজে কখনো আপস করেননি। সবর্দাই দেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে নিজেকে আত্মনিয়োজিত করেছেন। এখনো অব্যাহত রেখেছেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে বায়োগ্রাফি লেখা কষ্টসাধ্য। তার পরও তিনি (মাহফুজ উল্লাহ) যে ঝুঁকি নিয়েছেন, সে জন্য শুধু বিএনপি নয়, নিরপেক্ষ সবাইকে তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে হবে, শ্রদ্ধা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আজ যারা কথায় কথায় গ্রেনেড হামলার কথা বলেন, তাদেরসহ সবাইকে ভুলে গেলে চলবে না বাংলাদেশে প্রথম খালেদা জিয়ার জনসভায় গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে। সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা বইটি প্রকাশ করেছে দি ইউনিভার্সেল একাডেমি। ৭১৮ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থের দাম ২০০০ টাকা।

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে