sara

ওসি এসআই কনস্টেবল সবই রয়েছে ওদেরও

ডিবি পরিচয়ে অপহরণ ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:২১ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অফিস। পেছনের সাইনবোর্ডের তথ্য বলছে, এটি তাদের ঢাকা মেট্রো কার্যালয়। সেই অফিসের মিডিয়া সেন্টার। সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন আট জন, ডিবি পরিদর্শক জাবেদ আহমেদ ওরফে বাবু ও সোহাগ খন্দকার, উপপরিদর্শক নাজমুল হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন, কনস্টেবল আসাদুজ্জামান, বুলবুল আহমেদ, হারুন ওরফে হিরা এবং তাদের বস এমকে রানা।

তাদের সামনে চারটি মোটরসাইকেল। তারও সামনে একটি টেবিল। সেই টেবিলে ওয়াকিটকি, পিস্তল, হ্যান্ডকাফ ইত্যাদি রাখা। এটুকু পড়ার পর পাঠককে যদি বলা হয়, পাশাপাশি দাঁড়ানো এ ৮ জনেরই কোমরে দড়ি বাঁধা, তা হলে বিস্মিত হওয়া স্বাভাবিক। তবে সঙ্গত কারণেই তাদের এহেন দশা। এদের যেসব পদবি ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে, এর সবই ভুয়া। কিন্তু এমন পরিচয় দিয়েই এতদিন তারা অনেক অপকর্ম করে এসেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিষয়ে তথ্যাদি তুলে ধরা হয়। ওরা সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র। অবিকল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মতোই গতিবিধি। ওদের মধ্যেও আছে ওসি, এসআই, কনস্টেবল পদবিধারী; আছে পুলিশের লাঠি, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফসহ প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জাম। ওদের টার্গেট সচরাচর পুরান ঢাকা।

প্রথমে তারা বিত্তশালী ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক বা কর্মচারীর মাধ্যমে তাদের তথ্যাদি সংগ্রহ করত। এর পর সুযোগ বুঝে অপহরণ কিংবা ডাকাতি। ভিন্ন এলাকা থেকে ধনী ব্যবসায়ীদের তুলে নেওয়া হতো ডিবি পরিচয়ে। এর পর আটকে রেখে কেড়ে নেওয়া হতো সর্বস্ব; ক্ষেত্রবিশেষে আদায় করা হতো মোটা অংকের অর্থ। অনেক দিন ধরেই চক্রটি রাজধানীতে দাবড়ে বেরিয়েছে। অবশেষে চক্রটি ধরা পড়েছে পিবিআইয়ের হাতে। সংঘবদ্ধ

এ চক্রের হোতা এমকে রানা ছাড়াও আরও ৭ সদস্যকে গত সোমবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে থেকে আটক করে পিবিআই। এ সময় ৪টি মোটরসাইকেল, ৩টি ওয়ারলেস সেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, ২টি খেলনা পিস্তল, ১টি চাপাতি, ১টি চাকুও তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়। এ আট জনের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

পিবিআই প্রধান বলেন, গত ২৫ অক্টোবর বিকালে পল্টন এলাকা থেকে খিলক্ষেত এলাকায় নিজ বাসায় যাওয়ার জন্য এক বন্ধুসহ সুপ্রভাত গাড়িতে ওঠেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাসটি নর্দ্দা যাওয়ার পর দুটি মোটরসাইকেলের মাধ্যমে পথরোধ করে থামানো হয় বাসটি। এর পর ওয়ারলেস সেট ও ডিবি লেখা জ্যাকেট গায়ে চাপানো দুজন বাসে ওঠে। তারা মোস্তাফিজুর ও তার বন্ধুকে ইয়াবাসেবী ও ব্যবসায়ী জানিয়ে বাস থেকে নামিয়ে চড়থাপ্পড়, কিলঘুষি মারতে থাকে। পরে তাদের পকেটে থাকা নগদ ৪২ হাজার টাকা ও ২টি মোবাইল ফোনসেট এবং মোস্তাফিজুরের পকেট থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এর পর বন্ধুকে ছেড়ে দিলেও থানায় নিয়ে মামলা দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলযোগে মোস্তাফিজুরকে নিয়ে গুলশান, বাড্ডা, হাতিরঝিল এলাকায় ঘুরতে থাকে চক্রের সদস্যরা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন বিএসটিআই মোড়ে এনে বলে ‘তোকে আজকের মতো ছেড়ে দিলাম। তুই আর ইয়াবা খাবি না।’ এ সময় মোস্তাফিজুরের কাছ থেকে তারা একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যাগে ১৩ লাখ টাকা ছিল। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর ঘটনা বুঝে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুই ডাকাত ব্যাগটি ছেড়ে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। পরে মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত শুরু করলে একপর্যায়ে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে।

ডিআইজি বনজ কুমার আরও বলেন, পুরান ঢাকার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের কেউ কেউ এ চক্রের সোর্স। কোনো ব্যবসায়ী তার প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বের হলে তারাই তথ্য দিত। তথ্যের ভিত্তিতে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে থেকে ওই ব্যবসায়ীকে অনুসরণ করা শুরু করত চক্রের সদস্যরা। এর পর সেই এলাকা পেরিয়ে অন্য এলাকায় যাওয়ার পর কখনো মোটরসাইকেলে করে কখনোবা মাইক্রোবাসে চেপে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হতো তাকে এবং কেড়ে নেওয়া হতো অর্থ, মোবাইল ফোনসহ সর্বস্ব। লুণ্ঠিত মালামালের আর্থিক হিসাবে ৪০ শতাংশ দেওয়া হতো সোর্সকে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এমন আরও দুটি চক্রের বিষয়ে তথ্যাদি আছে পিবিআইয়ের কাছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে