নজিপুর পৌরসভার কাউন্সিলরসহ আটক ৩

পতœীতলায় আ.লীগ নেতা খুন

  নওগাঁ প্রতিনিধি

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পতœীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নজিপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ইসাহাক হোসেন (৭৫) হত্যাকা-ের ঘটনায় নজিপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ ওরফে লিটু ফকির (৪৫) ও তার ভাই বেলাল হোসেন (৪৮) এবং ইসাহাক হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার আনিমুল ইসলামকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। পতœীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পরিমল চন্দ্র জানান, ইসাহাক হত্যাকা- সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই

তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। এ হত্যাকা-ের ব্যাপারে গতকাল বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি। ওসি আরও জানান, খুনিরা ইসাহাক হোসেনের বাড়ির কেয়ারটেকার আনিমুল ইসলামকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে রেখেছিল। খুনিদের ধরতে সহায়তার জন্য তাকে আটক করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে ইসাহাক হোসেনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইসাহাক হোসেনের গাড়িচালক দুলাল রায় জানান, মঙ্গলবার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে সভা ছিল। সভা শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে ইসাহাক হোসেন ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বাড়ির পথে রওনা হন। গাড়িটি নজিপুর পৌরসভার মামুদপুর এলাকায় বাসার সামনে এসে পৌঁছলে গ্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার জন্য চালক বার বার হর্ন বাজালেও কেয়ারটেকার কোনো সাড়া না দেওয়ায় ইসাহাক হোসেন দরজা খুলতে গাড়ি থেকে নামেন। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা কয়েক দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। গাড়িচালক দুলাল রায় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত দুজনকে উদ্ধার করে পতœীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ইসাহাক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। দুলাল রায় পতœীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দাফন : গতকাল বাদ আসর নজিপুর পৌরসভার শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয় ইসাহাকের। জানাজায় স্থানীয় সাংসদ শহিদুজ্জামান সরকারসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।

পতœীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, দুজনকে আটক করা হলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে পরিবারের পক্ষ অভিযোগ পেলে এ ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশের সুবিধা হতে পারে। স্বজনরা কাউকে সন্দেহ করছেন কিনা তা এখনো জানা যায়নি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে