অভিযোগ অনুযোগ

  ওবায়দুল্লাহ সনি

১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘তুমি কেন তাপ তারে কর হৃদিমাঝ। তুমিহ করহ সব নিজ ভূজ জোরে। তুমি কোন অসমর্থ কহ দেখি মোরে। কহিলা যে কেহ নাহি আমার...।’ প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে লেখা মহাভারতের এ উক্তি যেন যুগে যুগেই চলে আসছে। আর রাজনীতিতে তো কথাই নেই। প্রতিটি দলই মনে করে দেশের পুরো জনগণ তাদের পক্ষে। কিন্তু দিন শেষে ফলটা হয় ভিন্ন। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোটের প্রচার। কুশল বিনিময়, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনসহ বিভিন্নভাবে জনগণের চোখের সামনে থাকতে চাচ্ছেন প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে চলছে বাগ্যুদ্ধ, একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে সমানতালে করে যাচ্ছে অভিযোগ ও অনুযোগও।

গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকারি দলের সবকিছুই আছে, কিন্তু মাঠে-ময়দানে তাদের ভোট নেই। আর সে জন্যই তারা ভয়-ভীতি ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে।’ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ নিয়ে যান দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রচার শুরুর পর পরই আমাদের মহাসচিবের গাড়িবহরে আক্রমণ হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের প্রচারে বারবার হামলা করা

হচ্ছে। মঈন খানের এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ও যুবলীগ মিলে এসব হামলা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা জামিনে আছেন তাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আবার যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। যেসব নেতাকর্মীর নামে মামলা নেই, মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। অনেকে পুলিশের ভয়ে পলাতক। ধরপাকড়ের এমন অবস্থায় নির্বাচনের সময় তো কোনো এজেন্ট পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

তবে বাগ্যুদ্ধে পিছিয়ে নেই আওয়ামী লীগ নেতারাও। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘হত্যার রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না। যারা হত্যার রাজনীতি করে, তারা অতীতেও জ্বালাও-পোড়াও করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। নির্বাচন সামনে রেখে তারাই আজ এসব হামলা চালাচ্ছে। আসলে আগুন-সন্ত্রাসীরাই হত্যার রাজনীতিতে নেমেছে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। জনগণই এ সন্ত্রাসীদের রুখে দেবে।’

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের কর্মীদের বেছে বেছে হামলা করা হচ্ছে। নির্বাচনে তারাই তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বেছে বেছে তাদের ওপর যে আক্রমণ তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের কর্মীকে প্রথমে চোখে মরিচের গুঁড়া দেওয়া হয়েছে। এর পর মাথা থেঁতলিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একটা স্বাধীন দেশে একাত্তরের মতো এমন নৃশংস কর্মকা- মেনে নেওয়া যায় না।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে