ভোটের মাঠে কূটনীতিকরাও

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক পাঠাবে কয়েকটি দেশ # ১৫ হাজার পর্যবেক্ষককে অর্থায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড

  আরিফুজ্জামান মামুন

১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:০৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দল এখন ভোটের মাঠে; পুরোদমে চলছে প্রচার। অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত এবং সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশায় অতীতের মতো এবারও ভোটের মাঠে তৎপর কূটনীতিকরা; গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছেন সার্বিক পরিস্থিতি। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো চায়, বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, যেখানে এ দেশের জনগণের স্বাধীন মতের প্রতিফলন ঘটবে। তাই ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে এখন চলছে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জোর প্রস্তুতি।

মার্কিন পর্যবেক্ষণ দলকে সহায়তা করবে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি গত অক্টোবরে ৫ সদস্যের একটি প্রাক-মূল্যায়ন দল পাঠিয়েছিল ঢাকায়। গত সপ্তাহে এমন আরেকটি দল পাঠানো হয়েছে। এনডিআইয়ের কার্যক্রমের অংশীদার দ্য এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করা হয়েছে খ্যাতিমান বেশকিছু আন্তর্জাতিক নির্বাচন বিশেষজ্ঞ; থাকছে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচন পর্যবেক্ষক। এ ছাড়া ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসেরও পৃথক একটি পর্যবেক্ষক দল থাকবে দেশজুড়ে দৃষ্টি রাখার জন্য। অন্যদিকে স্থানীয় ১৫ হাজার পর্যবেক্ষকের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতায় অর্থায়ন করবে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পর্যবেক্ষক ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) হয়ে কাজ করবেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে সম্প্রতি

নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আমরা বলেছি যেন সব দলের অবাধ অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সব দল যেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচার চালানোর সুযোগ পায়। তিনি বলেন, আমরা আরও বলেছি, গণমাধ্যম, বিরোধী দল যেন তাদের মত স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করতে পারে। কারণ, সমালোচনা বা বিতর্কের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র আরও বিকশিত হয়।

এ সময় রবার্ট মিলার বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক পাঠাবে। দূতাবাস থেকেও সারাদেশে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হবে। নির্বাচনে সব দলের শান্তিপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করে সবাইকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না। আমরা শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মূল্যবোধকে সমর্থন করি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার অংশ নেবে। আমরা সবাই এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সোমবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ (ইইউ) ঢাকাস্থ ইউরোপের ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার বিবৃতি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও প্রকৃত নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা সরকার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। তারা যে অঙ্গীকার করেছে, তা যেন রক্ষা করে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি এমন হতে হবে যেন জনগণের মতামতের সত্যিকার প্রতিফলন ঘটে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইইউর ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিঙ্ক। এ ছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত ডি এলভারো ডি সালাস গ্লিমন্জ ডি আজকারেট, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ক্যারটা সিলটার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মারিয়া-এনিক বরডিন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত এইচই পিটার ফারেনহোলৎজ, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েইজ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি এস্তেরাপ পিটারসেন, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সাইডেল ব্লিনকেল ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হোলেস্টেইন এতে স্বাক্ষর করেছেন।

রাষ্ট্রদূত রেনজি টেরিঙ্ক বলেন, ইইউ এবার পর্যবেক্ষক না পাঠালেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহের ওপর গভীর নজর রাখবে ইইউ। ইতোমধ্যেই দুজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভালো স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক রয়েছেন। আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তারা সম্ভবত চমৎকার ভূমিকা রাখবেন।

জার্মানির রাষ্ট্রদূত এইচই পিটার ফারেনহোলৎজ বলেন, নির্বাচনের ওপর আমরা গভীরভাবে নজর রাখব। আমি নিজেই পরিদর্শনে যাব।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে গত ২৯ নভেম্বর সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের আলোচনা হয়। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করে বলে এ সময় জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও নির্বাচন পর্যক্ষেকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন, নরওয়ে ও জাপানের কূটনীতিকরা। কানাডা, আইআইডি ও এনডিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জৌ বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নির্বিঘœ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে